একাদশ অধ্যায়

বাংলাদেশে জলবায়ু ও দুর্যোগ মোকাবিলা — বোর্ড প্রশ্ন ও উত্তর
← অধ্যায়সমূহে ফিরে যান

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন (ক)

উত্তর: গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আটকা পড়া অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রক্রিয়াকে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন (Global Warming) বলে।

উত্তর: বায়ুমণ্ডলের যেসব গ্যাস (যেমন- কার্বন ডাই-অক্সাইড, ওজোন, মিথেন, জলীয় বাষ্প ও সিএফসি) সূর্যের তাপ ধরে রেখে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, সেগুলোকে গ্রিনহাউস গ্যাস বলে।

উত্তর: মানুষের অবহেলা, অসচেতনতা বা অদূরদর্শিতার কারণে যে দুর্যোগের সৃষ্টি হয় এবং যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত করে, তাকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে।

উত্তর: তীব্র তাপদাহ বা অসতর্কতার কারণে বনাঞ্চলে যে বিধ্বংসী ও অনিয়ন্ত্রিত অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়, তাকে দাবানল (Forest Fire) বলে।

উত্তর: জাপানি ভাষায় 'সুনামি' (Tsunami) শব্দের অর্থ হলো—'সমুদ্রের তীরের ঢেউ' বা 'পোতাশ্রয়ের ঢেউ'।

উত্তর: ভূ-অভ্যন্তরে টেকটোনিক প্লেটের স্থানচ্যুতি বা অন্য কোনো কারণে ভূত্বকের হঠাৎ যে আকস্মিক ও ক্ষণস্থায়ী কম্পন সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্প বলে।

উত্তর: কোনো প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট কারণে সৃষ্ট এমন চরম ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি, যা সমাজের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে এবং ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি করে, তাকে দুর্যোগ বলে।

উত্তর: প্রকৃতির স্বাভাবিক কোনো পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট যে আকস্মিক ও ধ্বংসাত্মক বিপর্যয়ের ওপর মানুষের কোনো হাত থাকে না, তাকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে (যেমন- ভূমিকম্প, বন্যা, সুনামি ইত্যাদি)।

উত্তর: সমুদ্রের তলদেশে সৃষ্ট তীব্র ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সমুদ্রের জলরাশিতে যে বিশাল ও বিধ্বংসী জলোচ্ছ্বাসের ঢেউ সৃষ্টি হয়, তাকে সুনামি বলে।

উত্তর: বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ারের একটি বিশেষ স্তর যা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিকে সরাসরি পৃথিবীতে প্রবেশ করতে বাধা দেয়, তাকে ওজোন স্তর (Ozone Layer) বলে।

উত্তর: HCFC-এর পূর্ণরূপ হলো—Hydrochlorofluorocarbon।

উত্তর: CFC-এর পূর্ণরূপ হলো—Chlorofluorocarbon।

উত্তর: ভূত্বকের সবচেয়ে নিকটবর্তী ও নিচের বায়ুমণ্ডলীর স্তরের নাম 'ট্রপোস্ফিয়ার' (Troposphere)।

উত্তর: পৃথিবীর সর্ববৃহৎ রেইনফরেস্ট 'আমাজন বনভূমি' অথবা সামগ্রিকভাবে পৃথিবীর 'মহাসমুদ্রসমূহকে' পৃথিবীর ফুসফুস বলা হয়।

উত্তর: গ্রিনহাউস গ্যাসকে সাধারণত 'উষ্ণকারী গ্যাস' বা 'তাপ শোষণকারী গ্যাস' বলা হয়।

উত্তর: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ট্রপোস্ফিয়ারের গড় উচ্চতা প্রায় ১২ কিলোমিটার।

ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (খ)

উত্তর: বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড, সিএফসি, মিথেন প্রভৃতি গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ অতিরিক্ত মাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে বায়ুমণ্ডলে সূর্যের বিকিরিত তাপ আটকে যাচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সামগ্রিক তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকেই বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলে।

উত্তর: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধানতম কারণ হলো মানুষের বৈরী কর্মকাণ্ডের ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের অতিরিক্ত নির্গমন। কলকারখানা, ইটের ভাটা এবং যানবাহনের কালো ধোঁয়া প্রচুর পরিমাণে গ্রিনহাউস গ্যাস উৎপন্ন করে। এর পাশাপাশি মানুষ ব্যাপক হারে বনভূমি উজাড় বা গাছপালা কেটে ফেলায় প্রকৃতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণের ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে, যা বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিচ্ছে।

উত্তর: মানুষের আবাসন, আসবাবপত্র তৈরি ও কৃষিজমির প্রয়োজনে ব্যাপক হারে ও অপরিকল্পিতভাবে বনাঞ্চলের গাছপালা কেটে ফেলাকে বন উজাড়করণ বলে। বন উজাড় করার ফলে মাটির ক্ষয় বাড়ে, বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং বন্যপ্রাণীরা তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল হারিয়ে জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য হারায়।

উত্তর: মানুষের অসচেতনতা, লোভ ও অদূরদর্শিতার ফলে সৃষ্ট এমন বিপর্যয়, যা সমাজ ও রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করে তোলে এবং ব্যাপক প্রাণহানি ঘটায়, তাকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে। এই দুর্যোগগুলো পুরোপুরি মানুষের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং সচেতনতার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব; যেমন- যুদ্ধবিগ্রহ, অগ্নিকাণ্ড, রাসায়নিক দুর্ঘটনা, নদীদূষণ ও বনভূমি উজাড়করণ।

উত্তর: ভূ-অভ্যন্তরে থাকা টেকটোনিক প্লেটগুলোর পারস্পরিক সংঘর্ষ বা স্থানচ্যুতির ফলে ভূত্বকের ওপরে প্রবল ঝাঁকুনির সৃষ্টি হয়, যা ভূমিকম্পের মূল কারণ। এছাড়া পাহাড়ি অঞ্চলে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত কিংবা তীব্র পর্বত ভাঙন বা পাহাড় কাটার ফলেও স্থানীয়ভাবে ভূত্বক কেঁপে ওঠে এবং ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।

উত্তর: ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ ভারতীয় প্লেট, ইউরেশীয় প্লেট এবং মায়ানমার সাব-প্লেটের সংযোগস্থলের একটি সক্রিয় ফল্ট লাইনের কাছাকাছি অবস্থিত। এই ভূগর্ভস্থ প্লেটগুলো অত্যন্ত সক্রিয় ও গতিশীল থাকায় বাংলাদেশ তীব্র ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে দেশের ঢাকা, সিলেট, রংপুর ও চট্টগ্রাম অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

সৃজনশীল প্রশ্ন (গ, ঘ)

সৃজনশীল প্রশ্ন ১ [ঢাকা বোর্ড ২০১৯]

উদ্দীপক: মিলা পড়ার সময় হঠাৎ লক্ষ করল তার পড়ার টেবিলটা কাঁপছে। সাথে সাথে সে তার পড়ার টেবিলের নিচে চলে যায়। মিলার বান্ধবী রুবি রংপুরের তার দাদার বাড়িতে গ্রীস্মের ছুটিতে বেড়াতে যায়। বিকেলে ঘুরতে গিয়ে দেখে ফসলের ক্ষেতগুলোর মাটি রোদে শুকিয়ে ফেটে গেছে। এবার কোনো ফসল পাওয়া যাবে না ভেবে তার দাদা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত।

উত্তর: মানুষের অসচেতনতা, দূরদর্শিতার অভাব বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে যে দুর্যোগের সৃষ্টি হয় এবং যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত করে, তাকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে।

উত্তর: মানবসৃষ্ট নানা ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড যেমন নির্বিচারে গাছপালা কাটা, বনভূমি ধ্বংস করা, ভূগর্ভস্থ পানি অতিরিক্ত উত্তোলন এবং তিস্তাসহ অন্যান্য নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে মরুকরণের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। মরুকরণের ফলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদি অনাবৃষ্টির কারণে ফসলের জমি উর্বরতা হারিয়ে অনুর্বর মরুভূমিতে পরিণত হতে থাকে।

উত্তর: মিলা অত্যন্ত আকস্মিক ও শক্তিশালী প্রাকৃতিক দুর্যোগ 'ভূমিকম্প'-এর মুখোমুখি হয়েছে।

ভূত্বকের আকস্মিক ও ক্ষণস্থায়ী কম্পনকে ভূমিকম্প বলে। টেকটোনিক প্লেটের স্থানচ্যুতি বা ভূ-অভ্যন্তরের তাপীয় আলোড়নের ফলে এই প্রাকৃতিক ঘটনাটি ঘটে থাকে। এর কোনো আগাম পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হয় না।

উদ্দীপকে দেখা যায়, মিলা পড়াশোনা করার সময় হঠাৎ অনুভব করল যে তার পড়ার টেবিলটি কাঁপছে। এই কম্পন অনুভব করার পর তাৎক্ষণিকভাবে আত্মরক্ষার জন্য সে টেবিলের নিচে আশ্রয় নেয়। এই আকস্মিক কম্পন এবং টেবিলের নিচে অবস্থান নেওয়ার সচেতন প্রস্তুতিটি মূলত তীব্র ভূমিকম্পের সময় গৃহীত একটি আদর্শ প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপকে নির্দেশ করে।

উত্তর: রুবির দাদা যে প্রাকৃতিক দুর্যোগটির কারণে সমস্যাগ্রস্ত, তা হলো 'খরা' (Drought)। অনাবৃষ্টি ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার ফলে মাটির আর্দ্রতা কমে যায় এবং জমি ফেটে চৌচির হয়ে ফসল নষ্ট হয়। এই খরার দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব নিরসনে নিম্নোক্ত উপায়গুলো অত্যন্ত কার্যকর:

১. বৃক্ষরোপণ ও বনায়ন: খরার প্রধান কারণ হলো বৃষ্টিপাতের স্বল্পতা। ব্যাপক হারে গাছ লাগালে বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং মেঘ সৃষ্টি হয়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হতে সাহায্য করে।

২. জলাধার ও খাল খনন: বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করার জন্য দীঘি, পুকুর ও বড় বড় খাল খনন করা প্রয়োজন, যেন শুষ্ক মৌসুমে এই পানি সেচ কাজে ব্যবহার করা যায়।

৩. ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানো: অতিমাত্রায় গভীর নলকূপ ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। চাষাবাদে বৃষ্টির পানি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং অল্প পানিতে চাষ করা যায় এমন খরা-সহনশীল ফসলের চাষ বাড়াতে হবে।

৪. জৈব সারের ব্যবহার: রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জমিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ জৈব সার ব্যবহার করতে হবে, যা মাটির আর্দ্রতা ও পানি ধারণক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

সমন্বিত পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপের মাধ্যমে খরার ক্ষতিকর প্রভাব বহুলাংশে কমিয়ে ফসল উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।

সৃজনশীল প্রশ্ন ২ [কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯]

উদ্দীপক: জনাব রাকিব পরিবার নিয়ে সিলেটে বেড়াতে যান। কিন্তু ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলে একটি দুর্ঘটনার আশঙ্কায় তিনি সে স্থান ত্যাগ করেন। ফিরে এসে তিনি এক বাজারে অগ্নিকাণ্ডের কারণে যানজটে পড়েন।

উত্তর: জাপানি ভাষায় 'সুনামি' (Tsunami) শব্দের অর্থ হলো 'সমুদ্রের তীরের ঢেউ' বা 'পোতাশ্রয়ের ঢেউ'

উত্তর: ফুসফুস যেমন মানুষের শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ করে কার্বন ডাই-অক্সাইড দূর করতে সাহায্য করে, তেমনি পৃথিবীর বিশাল মহাসমুদ্রগুলো বায়ুমণ্ডল থেকে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষণ করে বায়ুর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে দেয়। মহাসমুদ্রের এই পরম বাস্তুসংস্থানিক অবদানের কারণে একে পৃথিবীর 'ফুসফুস' বলা হয়।

উত্তর: উদ্দীপকের প্রথম অংশে সিলেট অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ার আশঙ্কায় সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ 'ভূমিধস' (Landslide)-এর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

পাহাড়ের ঢালু অংশ থেকে মাটির বা শিলার বিশাল স্তূপ হঠাৎ নিচে খসে পড়াকে ভূমিধস বলে। দীর্ঘমেয়াদি ও ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ি অঞ্চলের মাটি অতিরিক্ত নরম ও ভারী হয়ে গেলে এই দুর্যোগটি দেখা দেয়।

উদ্দীপকে জনাব রাকিব পরিবার নিয়ে সিলেটে বেড়াতে গিয়ে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে একটি বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় স্থানটি ত্যাগ করেন। পাহাড়ি অঞ্চল সিলেটে অতিবৃষ্টির প্রধানতম বড় ঝুঁকি হলো ভূমিধস, যা বাড়িঘর চাপা দিয়ে মানুষের জীবন ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করতে পারে। সুতরাং, রাকিবের স্থান ত্যাগ করার পেছনে ভূমিধসের আশঙ্কাই কাজ করেছিল।

উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত দ্বিতীয় দুর্যোগটি হলো 'অগ্নিকাণ্ড'। এটি একটি মারাত্মক মানবসৃষ্ট ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য দুর্যোগ, যা প্রতিরোধে মানুষের পরম সচেতনতা ও দূরদর্শিতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

অগ্নিকাণ্ডের সিংহভাগ দুর্ঘটনাই ঘটে মানুষের অসচেতনতা ও অবহেলার কারণে। এর স্বপক্ষে যুক্তিগুলো হলো:

১. গার্হস্থ্য অসচেতনতা: আমাদের বাড়িঘরে জ্বলন্ত চুলা, কুপি, মশার কয়েল কিংবা নিভে না যাওয়া সিগারেট অবহেলা করে ফেলে রাখলে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। রান্নার পর চুলা নেভানো নিশ্চিত করতে হবে।

২. শিল্প ও কারখানায় ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা: বেশির ভাগ বাণিজ্যিক ভবন বা বাজারে অগ্নিকাণ্ড ঘটে শর্ট সার্কিট বা ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুতের তার ব্যবহারের ফলে। বাজারে নিয়মিত বৈদ্যুতিক পরীক্ষা এবং অগ্নি নির্বাপক সিলিন্ডার স্থাপন সচেতনতার একটি বড় অংশ।

৩. আইন ও নিয়ম মেনে চলা: রাসায়নিক গুদাম বা বিপজ্জনক কারখানা বসতি এলাকা থেকে দূরে রাখা এবং ভবনে ফায়ার এক্সিট ও পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মতো সচেতন আইনি দায়িত্ব পালন করতে হবে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো অগ্নিকাণ্ডের কোনো অনিবার্য কারণ থাকে না। মানুষ যদি নিজের কাজ ও অভ্যাসে সামান্য সতর্ক ও দায়িত্বশীল হয়, তবে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নিকাণ্ড প্রায় শতভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৩ [সিলেট বোর্ড ২০১৯]

উদ্দীপক: প্রথম অংশ: নাতাশা চেয়ারে বসে পড়ছিল। হঠাৎ তার মনে হলো মাথা ঘুরছে। সে দেখছে। তার পড়ার টেবিলটিও দুলছে। টেবিল থেকে জিনিসপত্র গড়িয়ে পড়ে যাচ্ছে। তার মা দৌড়ে এসে তাকে নিয়ে বাইরে চলে যান। দ্বিতীয় অংশ: নাতাশা দেখল ৫ মিনিটের মধ্যে তাদের এলাকায় জলোচ্ছ্বাস দেখা দেয়। এর ফলে ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট সব ডুবে যায় এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সাধিত হয়। এর জন্য ১টি বিশেষ দুর্যোগই দায়ী।

উত্তর: ভূ-অভ্যন্তরে টেকটোনিক প্লেটের স্থানচ্যুতি বা অন্য কোনো কারণে ভূত্বকের হঠাৎ যে আকস্মিক ও ক্ষণস্থায়ী কম্পন সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্প বলে।

উত্তর: পরিবেশ দূষণের পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণটি হলো 'নির্বিচারে বন উজাড়করণ' বা 'গাছপালা কাটা'। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বাসস্থান ও কৃষিজমি তৈরির উদ্দেশ্যে মানুষ ব্যাপক হারে বনভূমি ধ্বংস করছে। গাছপালা বায়ুর ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে আমাদের জন্য অক্সিজেন দেয়। বনভূমি উজাড় করার ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও পরিবেশ দূষণের মূল নিয়ামক হয়ে উঠেছে।

উত্তর: উদ্দীপকের প্রথম অংশে ক্ষণস্থায়ী কিন্তু অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ 'ভূমিকম্প'-এর স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে।

ভূমিকম্প অত্যন্ত হঠাৎ এবং কোনো আগাম সংকেত ছাড়াই ঘটে থাকে। এর ফলে ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র, দেয়াল বা ছাদ কাঁপতে শুরু করে এবং ঝুলন্ত জিনিসপত্র দুলতে থাকে।

উদ্দীপকের প্রথমাংশে নাতাশা পড়ার সময় লক্ষ্য করে যে তার মাথা ঘুরছে এবং পড়ার টেবিল ও ঘরের জিনিসপত্র দুলছে ও গড়িয়ে পড়ে যাচ্ছে। এই লক্ষণগুলো মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের প্রাথমিক বৈশিষ্ট্য। নাতাশার মা তাৎক্ষণিকভাবে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন নাগরিকের মতো নাতাশাকে সাথে নিয়ে ঘর থেকে খোলা জায়গায় চলে যান। সুতরাং, এই ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে ভূমিকম্পকেই নির্দেশ করে।

উত্তর: উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে বর্ণিত ৫ মিনিটের মধ্যে সংঘটিত জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টিকারী দুর্যোগটি হলো 'সুনামি' (Tsunami)। সুনামি মানুষের সামগ্রিক জীবনযাত্রার ওপর অত্যন্ত মারাত্মক ও সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সুনামি হলো সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট অত্যন্ত উচ্চ গতিসম্পন্ন ও শক্তিশালী বিশালাকার ঢেউয়ের মালা। এর বিধ্বংসী প্রভাব নিচে আলোচনা করা হলো:

১. তাত্ক্ষণিক প্রাণহানি ও বাসস্থান ধ্বংস: সুনামির তীব্র জলস্রোত মুহূর্তের মধ্যে উপকূলবর্তী শহর, বন্দর ও গ্রামগুলোকে গ্রাস করে ফেলে। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার হয়ে যায় এবং লাখ লাখ মানুষের তাত্ক্ষণিক মৃত্যু ঘটে।

২. অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিপর্যয়: উপকূলীয় অঞ্চলের বন্দর, মাছ ধরার সুবিধা এবং ব্যবসাবাণিজ্য সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। সমুদ্রের লবণাক্ত পানি চাষাবাদের জমিতে প্রবেশ করায় জমি দীর্ঘদিন ধরে অনুর্বর থাকে এবং ফসল নষ্ট হয়ে যায়।

৩. লবণাক্ততার প্রাদুর্ভাব: মিঠা পানির পুকুর, জলাধার ও নলকূপ সমুদ্রের নোনা পানিতে তলিয়ে যায়, ফলে তীব্র খাবার পানির সংকট দেখা দেয় এবং ডায়রিয়া ও কলেরার মতো রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে।

অতএব বলা যায়, সুনামি উপকূলীয় অঞ্চলের স্বাভাবিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে নিমেষেই ধ্বংস করে দেয়, যা কাটিয়ে উঠতে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর দীর্ঘ সময় ও ব্যাপক মানবিক সহায়তার প্রয়োজন হয়।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৪ [ঢাকা বোর্ড ২০১৮]

উদ্দীপক: রহিম ও করিম দুই বন্ধু গ্রামে বাস করে। একদিন ঢাকা শহর বেড়ানোর উদ্দেশ্যে তারা গ্রাম থেকে রওনা দিল। ঢাকা শহরে পৌঁছানোর পূর্বে তারা রাস্তার উভয় পাশের প্রচুর ইটভাটা এবং শিল্পকারখানা দেখতে পেল। ঢাকা শহরে পৌঁছানোর পর তারা দেখল রাসায়নিক ও ধোঁয়ার নির্গমনের কারণে ঢাকা শহরের তাপমাত্রা তাদের গ্রামের তাপমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি।

উত্তর: মানুষের অসচেতনতা, অদূরদর্শিতার অভাব বা বৈরী কর্মকাণ্ডের ফলে যে দুর্যোগের সৃষ্টি হয় এবং যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত করে, তাকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে (যেমন- অগ্নিকাণ্ড, যুদ্ধবিগ্রহ, বন উচ্ছেদ ইত্যাদি)।

উত্তর: বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে ভারতীয় ও ইউরেশীয় প্লেটের সংযোগস্থলে এবং মায়ানমার সাব-প্লেটের কাছে অবস্থিত। এই সক্রিয় ফল্ট লাইনগুলোর খুব কাছাকাছি অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ অত্যন্ত বড় ধরনের ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল (ঢাকা, সিলেট, রংপুর ও চট্টগ্রাম) তীব্র ও মৃদু ভূমিকম্পের আওতাভুক্ত।

উত্তর: উদ্দীপকে ক্ষতিকর ইটভাটা এবং শিল্পকারখানার অপরিকল্পিত ধোঁয়ার কারণে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিবেশগত সমস্যা অর্থাৎ 'বৈশ্বিক উষ্ণায়ন' (Global Warming) ও 'গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া'-কে নির্দেশ করা হয়েছে।

বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের (যেমন- কার্বন ডাই-অক্সাইড, সিএফসি, মিথেন ইত্যাদি) পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে পৃথিবীর চারপাশের বায়ুমণ্ডল সূর্যের বিকিরিত উত্তাপ ধরে রাখছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে গড় তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নামে পরিচিত।

উদ্দীপকে রহিম ও করিমের গ্রামের পাশে গড়ে ওঠা পরিবেশ আইন অমান্যকারী ইটভাটা এবং শিল্পকারখানা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড ছড়িয়ে দিচ্ছে। এই ক্ষতিকর ধোঁয়া বাতাসকে দূষিত করে তুলছে এবং গ্রামের সামগ্রিক তাপমাত্রা শহরের চেয়েও অসহনীয় করে তুলছে। এটি মূলত আমাদের চারপাশে গ্রিনহাউস গ্যাসের আস্তরণ তৈরি করে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ঘটাচ্ছে, যা তীব্র পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার জ্বলন্ত প্রমাণ।

উত্তর: হ্যাঁ, আমি এই বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণরূপে একমত যে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মতো ভয়াবহ পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার পেছনে 'বন উজাড়করণ' বা 'বৃক্ষ নিধন' অন্যতম প্রধান ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতিবাচক ভূমিকা পালন করছে।

বন উজাড়করণের ফলে পরিবেশের ওপর যে মারাত্মক প্রভাব পড়ে তার সপক্ষে যুক্তিগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. কার্বন ডাই-অক্সাইডের ভারসম্য নষ্ট: গাছপালা তাদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য বাতাস থেকে ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস গ্রহণ করে এবং আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ত্যাগ করে। যখন মানুষ নির্বিচারে গাছ কেটে বন উজাড় করে ফেলে, তখন কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করার স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বায়ুমণ্ডলে এই গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকে।

২. গ্রিনহাউস প্রভাব ও তাপমাত্রা বৃদ্ধি: বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইড বাড়ার কারণে বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এটি তাপ ধরে রাখার 'গ্রিনহাউস কাচঘরের' মতো কাজ করে। ফলস্বরূপ পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।

৩. জলবায়ু পরিবর্তন: বন উজাড়ের ফলে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যায়, অনাবৃষ্টি ও খরার প্রাদুর্ভাব বাড়ে এবং ঋতুচক্র বদলে যায়। হিমবাহ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হওয়ার বড় ঝুঁকি তৈরি হয়।

অতএব বলা যায়, বন উজার করার কারণে প্রকৃতির নিজস্ব কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিশোধন ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই পরিবেশ রক্ষায় ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক বনায়ন অত্যন্ত জরুরি।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৫ [সিলেট বোর্ড ২০১৮]

উদ্দীপক: জনি একটি টিভি চ্যানেলে আবহাওয়ার সংবাদ দেখছিল। তার ছোট ভাইবোনদের তারা খুব চিন্তিত ছিল। সংবাদে দেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্র বন্দরকে ৪ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ঠিক এই মুহূর্তে ঘরের সবকিছু কেঁপে উঠল। বিদ্যুৎ চলে গেল এবং বাইরে লোকজনের চিৎকারের শব্দ শোনা গেল। জনি তার ভাইবোনদের নিয়ে ঘরের কোণায় গিয়ে দাঁড়াল।

উত্তর: বায়ুমণ্ডলে নির্গত যেসব গ্যাস (যেমন- কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, ওজোন, মিথেন, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন বা সিএফসি) পৃথিবীর তাপমাত্রা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য দায়ী, সেগুলোকে একত্রে গ্রিনহাউস গ্যাস বলে।

উত্তর: বায়ুমণ্ডলের ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রতিরোধ করতে এবং বায়ুতে অক্সিজেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে আমাদের বেশি করে গাছ লাগানো উচিত। গাছপালা বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা বজায় রাখে, বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য করে এবং ঝড়-ঝাপটা ও ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে।

উত্তর: টিভি চ্যানেলে প্রচারিত আবহাওয়ার সংবাদটি এদেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলে আঘাতকারী অত্যন্ত প্রলয়ঙ্করী প্রাকৃতিক দুর্যোগ 'ঘূর্ণিঝড়' বা 'সাইক্লোন'-কে নির্দেশ করে।

সমুদ্রের পানির উচ্চ তাপমাত্রা এবং নিম্নচাপের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে তীব্র গতিসম্পন্ন ঘূর্ণায়মান বাতাসের সৃষ্টি হয়, যা ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোন নামে পরিচিত। এর সাথে সাধারণত উঁচু ও উত্তাল জলোচ্ছ্বাস যুক্ত থাকে।

উদ্দীপকের জনি একটি টিভি চ্যানেলে প্রচার হতে দেখে যে, দেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৪ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পূর্বেই আবহাওয়া অধিদপ্তর সাধারণত বিভিন্ন মাত্রার বিপদ সংকেত প্রচার করে সমুদ্র বন্দরগুলোকে নিরাপদ থাকতে বলে। সুতরাং, প্রচারিত এই আবহাওয়া সংবাদটি আমাদের দেশে নিয়মিত আঘাতকারী শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাসকেই নির্দেশ করে।

উত্তর: উদ্দীপকে জনি তাঁর ছোট ভাইবোনদের নিয়ে ঘরের কোণায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ভূমিকম্পের তীব্র কম্পনের মুহূর্তে তাঁর নেওয়া এই পদক্ষেপটি আংশিক কার্যকর হলেও সম্পূর্ণ নিরাপদ বা যথেষ্ট ছিল না।

ভূমিকম্পের সময় জীবন রক্ষার জন্য অনেক বেশি বিজ্ঞানসম্মত ও সচেতন পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। নিম্নে জনির পদক্ষেপের সীমাবদ্ধতা ও করণীয় বিশ্লেষণ করা হলো:

১. ঘরের কোণায় দাঁড়ানোর সীমাবদ্ধতা: ভূমিকম্পের সময় দেয়াল ঘেঁষে বা কোণায় দাঁড়ালে অনেক সময় দেয়াল ভেঙে পড়ার বা সিলিংয়ের প্লাস্টার মাথার ওপর খসে পড়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে। এর চেয়ে ঘরের কোনো অত্যন্ত শক্ত কাঠের টেবিল, খাট বা বিমের নিচে অবস্থান নেওয়া অনেক বেশি নিরাপদ ছিল।

২. টেলিভিশন ও ভারী আসবাবপত্র থেকে দূরে থাকা: ভূমিকম্পের মুহূর্তে বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং ভারী আসবাবপত্র থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন ছিল, যা জনি তড়িঘড়ি করতে পারেনি।

৩. ঝাঁকুনি শেষে বাইরে যাওয়া: ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি থেমে যাওয়ার সাথে সাথে অত্যন্ত শান্তভাবে ঘরের বাইরে এসে ফাঁকা বা খোলা জায়গায় আশ্রয় নেওয়া দরকার ছিল। জনিকে অবশ্যই তাঁর ছোট ভাইবোনদের নিরাপদ ও সাবধানে ঘরের বাইরে নিয়ে খোলা মাঠে চলে যেতে হতো।

অতএব, জনির ঘরের কোণায় গিয়ে দাঁড়ানোর পদক্ষেপটি তাৎক্ষণিক আত্মরক্ষার একটি প্রাথমিক চেষ্টা হলেও এটিকে পুরোপুরি নিরাপদ বলা যায় না। তীব্র ভূমিকম্পে ধ্বংসযজ্ঞ এড়াতে শক্ত আবরণের নিচে আশ্রয় নেওয়া এবং পরবর্তীতে দ্রুত খোলা মাঠে চলে যাওয়াই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত পদক্ষেপ।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৬ [বরিশাল বোর্ড ২০১৭]

উদ্দীপক:
'ক' প্রাকৃতিক দুর্যোগ — 'খ' প্রাকৃতিক দুর্যোগ
* ভারী বৃষ্টিপাত ও পার্বত্য এলাকা — * ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক কম্পন ও ভূত্বক
* নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বিঘ্ন — * কোনো পূর্বাভাস দেওয়া যায় না

উত্তর: গ্রিনহাউস গ্যাসকে সাধারণত 'উষ্ণকারী গ্যাস' বা 'তাপ শোষণকারী গ্যাস' বলা হয়।

উত্তর: মানুষের অসচেতনতা, অদূরদর্শিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার বা যুদ্ধবিগ্রহের মতো বৈরী কর্মকাণ্ডের ফলে যে আকস্মিক ও ধ্বংসাত্মক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়, যা মানবজীবন ও প্রকৃতির মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে, তাকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে। এই দুর্যোগগুলো সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব; যেমন- অগ্নিকাণ্ড, রাসায়নিক দুর্ঘটনা, বনভূমি উজাড়করণ, যুদ্ধ ইত্যাদি।

উত্তর: উদ্দীপকের 'ক' চিহ্নিত দুর্যোগটি হলো 'বন্যা'

বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক ও নিচু বদ্বীপ অঞ্চল হওয়ায় অতিবৃষ্টি এবং হিমালয়ের বরফগলা পানির ঢলে প্রতি বছরই দেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়।

উদ্দীপকের 'ক' ছকে বলা হয়েছে—ভারী বৃষ্টিপাত এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়ে নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং চারপাশের বিশাল সমভূমি প্লাবিত হয়। এটি সম্পূর্ণভাবে বন্যার প্রাকৃতিক রূপকে নির্দেশ করে। আমাদের দেশে সাধারণত আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে বর্ষার মৌসুমে এই বন্যা ব্যাপক আকার ধারণ করে, যা ফসলের খেত, রাস্তাঘাট ও জনবসতি ডুবিয়ে দেয় এবং জনজীবনকে সাময়িকভাবে স্থবির করে তোলে।

উত্তর: উদ্দীপকের 'খ' চিহ্নিত দুর্যোগটি হলো 'ভূমিকম্প'। হ্যাঁ, আমি সম্পূর্ণ একমত যে, ভূমিকম্পের মতো মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কোনো আগাম সংকেত দেওয়া সম্ভব না হলেও সঠিক 'পূর্বপ্রস্তুতি' এবং সচেতনতার মাধ্যমে এর ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির পরিমাণ বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

এর সপক্ষে আমার যুক্তিগুলো হলো:

১. টেকসই ভবন নির্মাণ: গৃহ নির্মাণের পূর্বে অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শ নিয়ে এবং বিল্ডিং কোড যথাযথভাবে মেনে রিইনফোর্সড কংক্রিট দিয়ে ভূকম্পন-সহনশীল টেকসই ভবন তৈরি করতে হবে।

২. পারিবারিক সচেতনতা ও মহড়া: পরিবারের সদস্যদের ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত না হয়ে কী করতে হবে (যেমন- শক্ত টেবিলের নিচে আশ্রয় নেওয়া, বিম বা পিলারের পাশে দাঁড়ানো, লিফট ব্যবহার না করা) সে বিষয়ে নিয়মিত মহড়া দিতে হবে।

৩. জরুরি কিট প্রস্তুত রাখা: বাড়িতে সবসময় শুকনো খাবার, পানীয় জল, ফার্স্ট এইড বক্স, টর্চলাইট এবং জরুরি যোগাযোগের ফোন নম্বরের তালিকা হাতের কাছে প্রস্তুত রাখতে হবে।

৪. গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়মিত তদারকি: ঘরের বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মেইন সুইচ কোথায় অবস্থিত তা পরিবারের সবাইকে জানিয়ে রাখতে হবে এবং কম্পন শুরু হলে বা থেমে যাওয়ার সাথে সাথে তা বন্ধ করে দিতে হবে।

সুতরাং বলা যায়, ভূমিকম্প সম্পূর্ণভাবে এড়ানো সম্ভব না হলেও সঠিক ও বৈজ্ঞানিক পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করার মাধ্যমে আমরা জীবন রক্ষা করতে পারি এবং এর বিধ্বংসী ক্ষয়ক্ষতিকে নূন্যতম পর্যায়ে নামিয়ে আনতে পারি।