উত্তর: একটি দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) উৎপাদিত মোট চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবার বাজার মূল্যের সমষ্টিকে মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) বলে।
উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট বছরে একটি দেশের মোট জাতীয় আয়কে সেই বছরের মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে যে গড় আয় পাওয়া যায়, তাকে মাথাপিছু আয় বলে।
উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের নাগরিকগণ কর্তৃক দেশে ও বিদেশে উৎপাদিত মোট চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবার বাজার মূল্যের সমষ্টিকে মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP) বলে।
উত্তর: একটি দেশের মানুষের গড় আয়ু, শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মান নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিমাপক সূচককে মানব উন্নয়ন সূচক (HDI) বলে।
উত্তর: মাথাপিছু আয়ের সূত্রটি হলো— $$\text{মাথাপিছু আয়} = \frac{\text{কোনো নির্দিষ্ট বছরের মোট জাতীয় আয়}}{\text{ঐ বছরের মোট জনসংখ্যা}}$$
উত্তর: অদক্ষ মানুষকে যখন শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মাধ্যমে দেশের জন্য উৎপাদনশীল ও কর্মক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা হয়, তখন তাকে মানবসম্পদ বলে।
উত্তর: মানুষের কোনো চেষ্টা ছাড়াই প্রকৃতির কাছ থেকে পাওয়া যেসব সম্পদ মানুষ তার প্রয়োজন মেটানোর জন্য ব্যবহার করে, সেগুলোকে প্রাকৃতিক সম্পদ বলে (যেমন- মাটি, পানি, খনিজ সম্পদ ইত্যাদি)।
উত্তর: শ্রমশক্তি সম্পন্ন মানুষকে যখন বুদ্ধি, শিক্ষা ও দক্ষতার দ্বারা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখার উপযোগী করে তোলা হয়, তখন সেই দক্ষ জনশক্তিকে মানবসম্পদ বলা হয়।
উত্তর: GDP-এর পূর্ণরূপ হলো— Gross Domestic Product।
উত্তর: HDI-এর পূর্ণরূপ হলো— Human Development Index।
উত্তর: কোনো দেশের জনপ্রতি বার্ষিক আয়কে মাথাপিছু আয় বলে।
উত্তর: GNP-এর পূর্ণরূপ হলো— Gross National Product।
উত্তর: PCI-এর পূর্ণরূপ হলো— Per Capita Income (মাথাপিছু আয়)।
উত্তর: কর্ণফুলী কাগজের কলে ব্যবহৃত প্রধান কাঁচামাল হলো বাঁশ ও বেত।
উত্তর: শিক্ষা মানুষের একটি মৌলিক অধিকার।
উত্তর: একটি দেশের ভৌগোলিক সীমানার অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) দেশি ও বিদেশি সকল নাগরিক দ্বারা উৎপাদিত মোট চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবার বাজার মূল্যের সমষ্টিকে জিডিপি বা মোট দেশজ উৎপাদন বলে। জিডিপি নির্ধারণে কেবল ভৌগোলিক সীমানার ভেতরের উৎপাদন হিসাব করা হয়; প্রবাসীদের রেমিটেন্স বা দেশের বাইরে কোনো নাগরিকের আয় এতে অন্তর্ভুক্ত হয় না।
উত্তর: একটি দেশের সীমানার ভেতরে উৎপাদিত চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবার আর্থিক মূল্যকে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি (GDP) বলে। এটি দেশের সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সক্ষমতা নির্দেশ করে। দেশের ভেতরে বসবাসকারী সকল দেশি ও বিদেশি নাগরিকের আয় এর অন্তর্ভুক্ত হলেও প্রবাসীদের রেমিটেন্স এতে যুক্ত হয় না।
উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট বছরে একটি দেশের মোট জাতীয় আয়কে সেই বছরের মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে যে গড় আয় পাওয়া যায়, তাকে মাথাপিছু আয় বলে। মাথাপিছু আয়ের মাধ্যমে একটি দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি পরিমাপ করা হয়। মাথাপিছু আয় যত বেশি হবে, মানুষের জীবনযাত্রার মানও তত উন্নত হবে।
উত্তর: মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে। এর ফলে মানুষ ভালো মানের খাদ্য, উন্নত শিক্ষা, চিকিৎসা এবং উন্নত আবাসন সুবিধা লাভ করতে পারে, যা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে। অন্যদিকে মাথাপিছু আয় কম হলে মানুষ অতি প্রয়োজনীয় চাহিদাও মেটাতে পারে না, ফলে জীবনযাত্রার মান নিম্নমুখী হয়ে পড়ে। সুতরাং, মাথাপিছু আয়ের সাথে মানুষের জীবনযাত্রার মানের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে।
উত্তর: মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি যখন দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুষ্টি খাতের উন্নয়ন ঘটে এবং মানুষ আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারে, তখন জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পায়। মাথাপিছু আয় বাড়লে মানুষ সঞ্চয় ও বিনিয়োগ করতে পারে, যা গ্রামীণ ও জাতীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করে মানুষের সার্বিক কল্যাণ সাধন করে।
উত্তর: বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ এবং জাতীয় আয়ে কৃষিখাত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেশের বিপুল জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটাতে খাদ্যশস্য (যেমন- ধান, গম ইত্যাদি) উৎপাদন প্রধান ভূমিকা রাখে। এটি একদিকে যেমন বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানির নির্ভরতা কমিয়ে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করে, অন্যদিকে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয়ের পথ সুগম করে জাতীয় জিডিপিতে শক্তিশালী অবদান রাখছে।
উত্তর: বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম মূল চালিকাশক্তি হলো শিল্পখাত। তৈরি পোশাক, বস্ত্র, নির্মাণ, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ ইত্যাদি এই খাতের অংশ। শিল্পখাত বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য বিশেষ করে নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দারিদ্র্য দূরীকরণে সরাসরি ভূমিকা রাখে। এছাড়া বিদেশে শিল্পজাত পণ্য রপ্তানি করে দেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে, যা জাতীয় প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে।
উত্তর: দেশের অদক্ষ ও সাধারণ শ্রমশক্তিকে যখন উপযুক্ত শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মাধ্যমে কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল নাগরিকে রূপান্তর করা হয়, তখন তাকে মানবসম্পদ বলে। মানবসম্পদ দেশের প্রাকৃতিক ও বস্তুগত সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে গতিশীল করতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
উত্তর: একটি অদক্ষ বিশাল জনসংখ্যা দেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু তাদের যদি আধুনিক শিক্ষা ও উপযুক্ত কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তবে তারা সম্পদে পরিণত হয়। মানবসম্পদের উন্নয়ন ঘটলে দেশের বেকারত্ব হ্রাস পায়, মাথাপিছু ও জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায় এবং দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। তাই দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রয়োজন।
উত্তর: দরিদ্র মানুষের আয় কম থাকায় তারা তাদের মৌলিক চাহিদা মেটানোর পর সঞ্চয় করতে পারে না। সঞ্চয়ের অভাবের কারণে সমাজে নতুন বিনিয়োগ ও মূলধন গঠিত হয় না। বিনিয়োগের অভাবে উৎপাদনশীলতা কমে যায়, ফলে তাদের আয়ও বাড়ে না। এইভাবে কম আয়ের কারণে দরিদ্র মানুষ ক্রমাগত দারিদ্র্যের ঘূর্ণাবর্তে ফেঁসে থাকে, একেই দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বলে।
উত্তর: দরিদ্র পরিবারের আয় কম থাকায় তারা সন্তানদের পুষ্টিকর খাদ্য, আধুনিক শিক্ষা ও সুচিকিৎসা দিতে পারে না। এর ফলে শিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল ও অদক্ষ অবস্থায় বড় হয়। শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তারা কোনো প্রযুক্তিগত বা পেশাগত জ্ঞান অর্জন করতে পারে না। এভাবে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে তারা অদক্ষ থেকে যায় এবং মানবসম্পদ হিসেবে বিকশিত হতে পারে না।
উত্তর: বিদেশে কর্মরত কোনো নাগরিক বৈধ উপায়ে বা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে স্বদেশে তাঁর পরিবারের কাছে যে কষ্টার্জিত অর্থ প্রেরণ করেন, তাকে প্রবাসী আয় বা রেমিটেন্স বলে। রেমিটেন্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম বৃহত্তম খাত এবং এটি দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ও দারিদ্র্য বিমোচনে অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা পালন করছে।
উত্তর: একটি দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) উৎপাদিত মোট চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবার বাজার মূল্যের সমষ্টিকে মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) বলে।
উত্তর: মানব সম্পদ উন্নয়ন বলতে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মাধ্যমে মানুষকে দক্ষ ও উৎপাদনশীল নাগরিকে রূপান্তর করাকে বোঝায়। দক্ষ মানুষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, উৎপাদনশীলতা বাড়ায় এবং দেশের প্রাকৃতিক ও বস্তুগত সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে। এর ফলে দেশের জাতীয় ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়।
উত্তর: সজল সাহেবের গার্মেন্টস কারখানা স্থাপনের কাজটি আমাদের জাতীয় আয়ের 'শিল্পখাত'-এর অন্তর্ভুক্ত।
আমাদের জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো শিল্পখাত। দেশের অভ্যন্তরে বৃহৎ, মাঝারি ও কুটির শিল্পে উৎপাদিত চূড়ান্ত দ্রব্যসামগ্রী এই খাতের আওতাভুক্ত। উদ্দীপকে সজল সাহেব প্রবাস থেকে প্রেরিত অর্থ বিনিয়োগ করে একটি তৈরি পোশাক কারখানা (গার্মেন্টস) স্থাপন করেছেন। তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শিল্পখাত, যা দেশের রপ্তানি আয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। যেহেতু সজল সাহেবের প্রতিষ্ঠানটি নতুন পণ্য বা পোশাক উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সাথে জড়িত, তাই তাঁর এই বাণিজ্যিক উদ্যোগটি আমাদের জাতীয় আয়ের শিল্পখাতের অন্তর্ভুক্ত।
উত্তর: উদ্দীপকে সুজনের প্রেরিত অর্থ হলো 'রেমিটেন্স' বা প্রবাসী আয়, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
প্রবাসে কর্মরত নাগরিকদের কষ্টার্জিত অর্থ যখন বৈধ উপায়ে বা ব্যাংকিং চ্যানেলে নিজ দেশে পাঠানো হয়, তখন তাকে রেমিটেন্স বলে। উদ্দীপকে সুজন সৌদি আরব থেকে তাঁর বাবার কাছে যে অর্থ পাঠিয়েছেন, তা দেশের অর্থনীতিতে নিম্নোক্তভাবে অবদান রাখছে:
১. মূলধন গঠন ও বিনিয়োগ: সুজনের পাঠানো অর্থ কেবল তাঁর পরিবারের জীবনযাত্রার চাহিদা মেটাতে ব্যবহৃত হয়নি, বরং তাঁর বাবা সজল সাহেব তা দিয়ে একটি গার্মেন্টস কারখানা স্থাপন করেছেন। অর্থাৎ, এই রেমিটেন্স সরাসরি উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বা মূলধনে রূপান্তরিত হয়েছে।
২. কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন: গার্মেন্টস কারখানাটি স্থাপনের ফলে অনেক বেকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের বেকারত্ব সমস্যা দূর করতে এবং সাধারণ মানুষের আয়ের পথ সুগম করতে বড় ভূমিকা রাখছে।
৩. বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি: প্রবাসীদের রেমিটেন্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করে, যা দেশের আমদানি ব্যয় মেটাতে এবং টাকার মান স্থিতিশীল রাখতে অপরিহার্য।
সুতরাং বলা যায়, সুজনের মতো প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধাদের পাঠানো অর্থ গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের সামগ্রিক জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে এক অনন্য ভূমিকা পালন করছে।
উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) কোনো দেশের নাগরিকগণ কর্তৃক দেশে ও বিদেশে উৎপাদিত মোট চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবার বাজার মূল্যের আর্থিক সমষ্টিকে মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP) বলে।
উত্তর: অর্থনীতিবিদ র্যাগনার নার্কসের মতে, দরিদ্র দেশগুলোর দারিদ্র্যের পেছনে একটি চক্রাকার প্রক্রিয়া কাজ করে, যা 'দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র' নামে পরিচিত। এর মূল কথা হলো: স্বল্প আয় → স্বল্প সঞ্চয় → স্বল্প বিনিয়োগ → স্বল্প মূলধন → স্বল্প উৎপাদনশীলতা এবং পুনরায় স্বল্প আয়। দরিদ্র মানুষের আয় কম থাকায় তারা সঞ্চয় করতে পারে না, ফলে বিনিয়োগের অভাব ঘটে এবং তারা আজীবন দারিদ্র্যের কষাঘাতেই নিমজ্জিত থাকে।
উত্তর: উদ্দীপকে তনিমা তাঁর গ্রামে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন।
কোনো মানুষকে যখন শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মাধ্যমে উৎপাদনশীল ও দক্ষ করে তোলা হয়, তখন তাকে 'মানবসম্পদ' বলে। অদক্ষ মানুষ দেশের জন্য বোঝা, কিন্তু শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব।
উদ্দীপকে তনিমা গ্রামে ফিরে গিয়ে শিক্ষার প্রসারে আত্মনিয়োগ করেছেন। শিক্ষাই হলো মানবসম্পদ উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করে গ্রামের ছেলেমেয়েরা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হচ্ছে। তারা নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি জাতীয় উৎপাদনেও ভূমিকা রাখছে। শিক্ষার আলোর মাধ্যমে তনিমা গ্রামীণ যুবসমাজকে বোঝা থেকে সম্পদে রূপান্তর করছেন, যা মানবসম্পদ গঠনের এক আদর্শ উদাহরণ।
উত্তর: উদ্দীপকের সাকিলার প্রেরিত অর্থ হলো 'রেমিটেন্স' বা প্রবাসী আয়, যা বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
সাকিলা দূরপ্রাচ্যের একটি দেশে চাকরি করে যে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে তাঁর পরিবারের নিকট পাঠান, তা সরাসরি আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে যুক্ত হয়। এর গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি: প্রবাসীদের পাঠানো ডলার এদেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান উৎস। এটি শক্তিশালী রিজার্ভ গড়ে তুলতে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আমদানি ব্যয় মেটাতে সরকারকে সাহায্য করে।
২. গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখা: রেমিটেন্সের সিংহভাগ সরাসরি গ্রামের মানুষের কাছে পৌঁছায়। এর ফলে সাকিলার মতো হাজারো প্রবাসীর পরিবার পুষ্টিকর খাদ্য, উন্নত বাসস্থান ও শিক্ষার সুযোগ পায়, যা গ্রামীণ জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করে।
৩. বিনিয়োগের সুযোগ: প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ সঞ্চয়ের পাশাপাশি জমি ক্রয়, বাড়ি নির্মাণ কিংবা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বিনিয়োগ হয়, যা দেশের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়।
পরিশেষে বলা যায়, সাকিলার মতো প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো রেমিটেন্স বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাকা সচল রাখতে এবং দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উত্তর: একটি দেশের অভ্যন্তরে দেশি ও বিদেশি সকল নাগরিক দ্বারা নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) উৎপাদিত মোট চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবার বাজার মূল্যের সমষ্টিকে মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) বলে।
উত্তর: দরিদ্র পরিবারের মানুষের আয় কম থাকায় তারা পুষ্টিকর খাদ্য, উন্নত চিকিৎসা এবং ভালো শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। অপর্যাপ্ত পুষ্টি ও শিক্ষার অভাবে তারা শারীরিকভাবে দুর্বল ও অদক্ষ থেকে যায়, যা তাদের উৎপাদনশীলতা হ্রাস করে। ফলস্বরূপ তারা কোনো ভালো কর্মসংস্থানে যোগ দিতে পারে না এবং তাদের আয়ও বাড়ে না। এভাবেই দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র মানুষকে অদক্ষ করে রেখে মানবসম্পদ উন্নয়নকে মারাত্নকভাবে বাধাগ্রস্ত করে।
উত্তর: উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী:
'X' দেশটির মোট জাতীয় আয় = ৪,৫০,০০০ কোটি ডলার।
দেশটির মোট জনসংখ্যা = ১২ কোটি।
আমরা জানি, মাথাপিছু আয় = $\frac{\text{কোনো নির্দিষ্ট বছরের মোট জাতীয় আয়}}{\text{ঐ বছরের মোট জনসংখ্যা}}$
অতএব, 'X' দেশটির মাথাপিছু আয় = $\frac{\text{৪,৫০,০০০ কোটি ডলার}}{\text{১২ কোটি}}$ = ৩৭,৫০০ ডলার।
উত্তর: 'X' দেশটির মাথাপিছু আয় ৩৭,৫০০ মার্কিন ডলার।
উত্তর: হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকের রকিব সাহেবের মতো প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো অর্থ (রেমিটেন্স) আমাদের দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অত্যন্ত যুগান্তকারী ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স এদেশের অর্থনীতির জীবনীশক্তি হিসেবে কাজ করে। এর ইতিবাচক প্রভাবগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. দারিদ্র্য বিমোচন ও ভোগ ব্যয় বৃদ্ধি: রেমিটেন্সের অর্থ সরাসরি প্রবাসীদের পরিবারের হাতে পৌঁছায়। এর ফলে দেশের প্রান্তিক জনগণের আয় বাড়ে, তারা উন্নত মানের খাদ্য ও শিক্ষা কিনতে পারে, যা বাজারে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি করে এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবসাবাণিজ্য সচল রাখে।
২. মূলধন গঠন ও গ্রামীণ বিনিয়োগ: রেমিটেন্সের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ গ্রামীণ এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসা, কৃষি আধুনিকীকরণ এবং আবাসন খাতে বিনিয়োগ হয়, যা দেশের সার্বিক জিডিপি বাড়াতে সহায়ক।
৩. রিজার্ভের মেরুদণ্ড: প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের মূল ভিত্তি। এটি জাতীয় মুদ্রার (টাকা) বিনিময় মূল্য স্থিতিশীল রাখে এবং আমদানি নির্ভর অর্থনীতির চাহিদা মেটায়।
অতএব, রকিব সাহেবের মতো প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধাদের পাঠানো কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ভিত শক্তিশালী করার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে অপরিহার্য ভূমিকা রাখছে।
উত্তর: জিডিপি (Gross Domestic Product) বা মোট দেশজ উৎপাদন বলতে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) একটি দেশের ভৌগোলিক সীমানার অভ্যন্তরে উৎপাদিত মোট চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবার বাজার মূল্যের সমষ্টিকে বোঝায়।
উত্তর: বাংলাদেশের জাতীয় আয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রাখছে 'সেবা খাত' (যেমন- শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যাংক-বীমা, পরিবহন ও যোগাযোগ ইত্যাদি)। সেবাখাত দেশের বৃহৎ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কর্মমুখী করে তোলে এবং মানুষের আধুনিক ও সহজ জীবনযাত্রা নিশ্চিত করে। তবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত শিল্পায়নের কারণে জাতীয় আয়ে তৈরি পোশাক ও নির্মাণ শিল্পসহ সামগ্রিক শিল্পখাতের ভূমিকাও ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী হচ্ছে।
উত্তর: জনাব আলমের দেশে অর্থ প্রেরণ করার কাজটি একটি 'রেমিটেন্স প্রেরণ' বা 'প্রবাসী আয়' অর্জনের কাজ।
প্রবাসে কর্মরত কোনো ব্যক্তি তাঁর উপার্জিত অর্থের যে অংশ ব্যাংকিং চ্যানেল বা অন্য কোনো বৈধ উপায়ে স্বদেশে তাঁর পরিবারের কাছে পাঠান, তাকে রেমিটেন্স বলা হয়। উদ্দীপকে জনাব আলম দীর্ঘদিন বিদেশে চাকরি করে দেশে তাঁর পরিবারের নিকট অর্থ পাঠিয়েছেন। এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম বৃহত্তম খাত এবং এর ফলে সামষ্টিক অর্থনীতি শক্তিশালী হয়। অতএব, জনাব আলমের এই অর্থ প্রেরণের কাজটি সম্পূর্ণভাবে রেমিটেন্সের আওতাভুক্ত।
উত্তর: জনাব আলমের পাঠানো অর্থ (রেমিটেন্স) আমাদের জাতীয় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও বহুমুখী প্রভাব ফেলে। এর প্রভাবগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. পারিবারিক স্বচ্ছলতা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন: আলমের পাঠানো অর্থের কারণে তাঁর পরিবার পুষ্টিকর খাদ্য, উন্নত চিকিৎসা এবং শিক্ষার উন্নত সুযোগ পেয়েছে, যা গ্রামীণ জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করে।
২. বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি: উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব আলম দেশে ফিরে তাঁর জমানো টাকা দিয়ে এলাকার বেকার যুবকদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ, তাঁর প্রেরিত প্রবাসী আয় অলস পড়ে না থেকে কর্মসংস্থানমুখী উৎপাদনশীল কাজে বিনিয়োগ হয়েছে।
৩. জাতীয় উন্নয়ন ও রিজার্ভ: আলমের মতো লাখ লাখ প্রবাসীর পাঠানো ডলার দেশের রিজার্ভের ভিত্তি শক্তিশালী করে। এটি দেশের বড় বড় উন্নয়নমূলক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারকে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করে।
পরিশেষে বলা যায়, জনাব আলমের পাঠানো অর্থ তাঁর ব্যক্তিগত পরিবারের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে এবং জাতীয় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে অনস্বীকার্য ভূমিকা রাখছে।
উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট বছরে একটি দেশের মোট জাতীয় আয়কে সেই বছরের মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে যে গড় আয় পাওয়া যায়, তাকে মাথাপিছু আয় বলে।
উত্তর: দরিদ্র মানুষের আয় কম থাকায় তারা তাদের মৌলিক চাহিদা মেটানোর পর কোনো সঞ্চয় করতে পারে না। সঞ্চয়ের অভাবের কারণে সমাজে নতুন বিনিয়োগ ও মূলধন গঠিত হয় না। বিনিয়োগ না থাকলে উৎপাদন বাড়ে না, ফলে আয়ও অপরিবর্তিত থাকে। এইভাবে কম আয়ের কারণে দরিদ্র মানুষ ক্রমাগত দারিদ্র্যের ঘূর্ণাবর্তে ফেঁসে থাকে, একেই দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বলে।
উত্তর: উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১-এ অর্থনীতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূচক 'জিডিপি' (Gross Domestic Product) বা মোট দেশজ উৎপাদন-কে নির্দেশ করে।
কোনো দেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে নির্দিষ্ট সময়ে দেশি ও বিদেশি সকল নাগরিক কর্তৃক উৎপাদিত মোট চূড়ান্ত পণ্য ও সেবার বাজার মূল্যকে জিডিপি বলে। জিডিপি নির্ধারণের ক্ষেত্রে কেবল দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত পণ্যের মূল্য বিবেচনা করা হয়। প্রবাসে কর্মরত নাগরিকদের পাঠানো আয় (রেমিটেন্স) কিংবা বিদেশে অবস্থিত দেশীয় প্রতিষ্ঠানের আয় এতে যোগ হয় না। দৃশ্যকল্প-১-এ প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ বাদ দেওয়ার বিষয়টি জিডিপির এই সংজ্ঞাকেই নির্দেশ করে।
উত্তর: হ্যাঁ, দৃশ্যকল্পে বর্ণিত সূচকদ্বয় অর্থাৎ জিডিপি (GDP) এবং জিএনপি (GNP) বা মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির মাধ্যমেই একটি দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটে।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলো একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যা দেশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জনগণের জীবনযাত্রার গুণগত পরিবর্তনের সাথে জড়িত। এর পেছনে উক্ত সূচকগুলোর ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. জিডিপি (GDP) বৃদ্ধি: জিডিপি বৃদ্ধির অর্থ হলো দেশের ভেতরে শিল্প, কৃষি ও সেবা খাতের উৎপাদন সচল রয়েছে। এটি নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং বেকারত্ব দূর করে।
২. জিএনপি (GNP) ও রেমিটেন্স: জিএনপিতে প্রবাসীদের আয় যুক্ত হয়। রেমিটেন্সের টাকা দেশের অভ্যন্তরীণ মূলধন হিসেবে কাজ করে, যা নতুন বিনিয়োগের পথ উন্মুক্ত করে।
৩. মাথাপিছু আয় ও জীবনযাত্রার মান: জিডিপি ও জিএনপি বাড়লে মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পায়। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেলে মানুষ ভালো মানের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টিকর খাদ্য ও উন্নত আবাসন সুবিধা পায়, যা মানবসম্পদ উন্নয়নে সাহায্য করে।
পরিশেষে বলা যায়, জিডিপি ও জিএনপির সুষম প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখে, দারিদ্র্য দূর করে এবং দেশকে মধ্যম আয়ের বা উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছাতে সাহায্য করে।