সপ্তম অধ্যায়

সামাজিকীকরণ — বোর্ড প্রশ্ন ও উত্তর
← অধ্যায়সমূহে ফিরে যান

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন (ক)

উত্তর: 'ই-কমার্স'-এর পূর্ণরূপ হলো 'ইলেকট্রনিক কমার্স' (Electronic Commerce)

উত্তর: ইন্টারনেট বা অনলাইনের মাধ্যমে কোনো পণ্য ও সেবা কেনাবেচা এবং লেনদেন করার আধুনিক পদ্ধতিকে ই-কমার্স বলে।

উত্তর: ই-মেইল (E-mail) বা ইলেকট্রনিক মেইল হলো এমন একটি ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা যার মাধ্যমে অতি অল্প সময়ে কম্পিউটারে বা মোবাইলের ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে দেশ-বিদেশে চিঠি ও তথ্য আদান-প্রদান করা যায়।

উত্তর: মানুষ যখন অন্য কারও কাজ, সাজসজ্জা বা আচরণ হুবহু নিজের মধ্যে প্রকাশ করার চেষ্টা করে, তাকে অনুকরণ বলে।

উত্তর: জন্মের পর থেকে যে চলমান প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মানুষ সমাজের রীতিনীতি, মূল্যবোধ ও নিয়মকানুন আয়ত্ত করে নিজেকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে, তাকে সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া বলে।

উত্তর: ই-মেইল-এর পূর্ণরূপ হলো 'ইলেকট্রনিক মেইল' (Electronic Mail)

উত্তর: মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো 'ভাষা'

উত্তর: যেসব প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে সংবাদ, শিক্ষামূলক তথ্য ও বিনোদন একযোগে পৌঁছে দেওয়া হয়, সেগুলোকে গণমাধ্যম বলে (যেমন- সংবাদপত্র, টেলিভিশন ইত্যাদি)।

উত্তর: টুইটার হলো ইন্টারনেটভিত্তিক একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ও মাইক্রোব্লগিং সাইট, যার সাহায্যে ব্যবহারকারীরা সংক্ষিপ্ত বার্তা বিনিময় করতে পারেন।

উত্তর: সামাজিকীকরণের প্রথম ও প্রধান বাহন হলো 'পরিবার'

উত্তর: আধুনিক যুগে সামাজিকীকরণের সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী ও জনপ্রিয় মাধ্যম হলো 'টেলিভিশন' (বা গণমাধ্যম)।

উত্তর: পরিবারের পর শিশুর সামাজিকীকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তার 'সমবয়সী সঙ্গী বা খেলার সাথী'

ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন (খ)

উত্তর: সামাজিকীকরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা শিশুর জন্মের পর শুরু হয় এবং আমৃত্যু চলতে থাকে। মানুষ সমাজের নিয়মকানুন, রীতিনীতি ও মূল্যবোধ কোনো একদিনে বা এক বছরে শেখে না, বরং প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত পরিবেশ, সমাজ ও জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন নতুন ভূমিকা ও দক্ষতা অর্জনের মধ্য দিয়ে সারা জীবন নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে শেখে। তাই একে একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া বলা হয়।

উত্তর: সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া মানুষের জীবনের যেকোনো এক পর্যায়ে থেমে থাকে না; বরং এটি মানুষের শৈশব থেকে শুরু হয়ে বার্ধক্য ও মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত গতিশীল থাকে। শৈশব, কৈশোর, যৌবন ও বার্ধক্যের বিভিন্ন স্তরে মানুষ প্রতিনিয়ত সমাজের নতুন নতুন আদর্শ আয়ত্ত করে। পরিবর্তনের এই ধারাবাহিকতার কারণে সামাজিকীকরণকে একটি চলমান প্রক্রিয়া বলা হয়।

উত্তর: পরিবার হলো শিশুর সামাজিকীকরণের প্রথম পাঠশালা। শৈশব থেকেই বাবা-মায়ের নিবিড় ভালোবাসা, স্নেহ, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুশাসন এবং পারিবারিক বন্ধনের মধ্য দিয়ে শিশুর নৈতিক ও চারিত্রিক ভিত্তি গড়ে ওঠে। পরিবারের সদস্যদের আবেগ ও দৃষ্টিভঙ্গি শিশুর মনে সততা, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলে। পারিবারিক এই শিক্ষার প্রভাব মানুষের জীবনের শেষ পর্যন্ত বজায় থাকে বলেই পরিবারকে সামাজিকীকরণের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহন বলা হয়।

উত্তর: অভিভাবন হলো এক ধরনের যোগাযোগ মাধ্যম বা মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া, যার সাহায্যে নিজের কোনো বার্তা বা তথ্য নিজের অজান্তে অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় এবং তা অন্যের আচার-আচরণকে প্রভাবিত করে। সাধারণত কোনো বিষয়ে শিশুদের বোঝানোর জন্য বা সমাজে কোনো ইতিবাচক প্রচারণার কাজে অভিভাবন প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়।

উত্তর: শৈশবে শিশুদের নিজস্ব যৌক্তিক চিন্তা করার ক্ষমতা বা বাস্তবতার পরিপক্বতা থাকে না। তারা তাদের চারপাশের বড়দের বা টেলিভিশনের বিভিন্ন চরিত্রের সাজসজ্জা, কথা বলার ধরন ও কাজকে খুব আকর্ষণীয় মনে করে এবং হুবহু তা নকল করার চেষ্টা করে। শিশুরা সহজাত প্রবণতার কারণেই অনুকরণপ্রিয় হয়, তাই তারা অনুকরণ দ্বারা খুব সহজেই প্রভাবিত হয়।

উত্তর: সংবাদপত্র কেবল দেশ-বিদেশের সংবাদ পরিবেশন করে না, বরং এটি আমাদের সমাজ ও বিশ্ব সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা সৃষ্টি করে মানুষের মনের সংকীর্ণতা দূর করে। সংবাদপত্র নিয়মিত পড়লে মানুষের সাধারণ জ্ঞান ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ে, যা তাকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। তাই আমাদের নিয়মিত সংবাদপত্র পড়া প্রয়োজন।

উত্তর: ই-মেইল বা ইলেকট্রনিক মেইল হলো বর্তমান বিশ্বের অত্যন্ত দ্রুতগতির ও সাশ্রয়ী যোগাযোগ মাধ্যম। এর মাধ্যমে অতি অল্প সময়ে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে তথ্য, ছবি ও নথি আদান-প্রদান করা যায়। এই দ্রুত যোগাযোগের ফলে ভৌগোলিক দূরত্ব ঘুচে যায় এবং মানুষ বিশ্ব সংস্কৃতির সাথে সহজে মেলবন্ধন তৈরি করে দ্রুত সামাজিকীকরণের সুযোগ পায়।

উত্তর: টেলিভিশনে একই সাথে শব্দ শোনা যায় এবং ছবি বা চলমান দৃশ্য দেখা যায়। দৃশ্য ও শ্রবণের এই যুগপৎ আকর্ষণের কারণে এটি মানুষের মনে খুব গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। অশিক্ষিত ও শিশু থেকে শুরু করে সব স্তরের মানুষ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান সহজে বুঝতে ও তা থেকে ধারণা গ্রহণ করতে পারে, যা অন্য কোনো গণমাধ্যমে সম্ভব নয়। এ কারণেই একে সবচেয়ে শক্তিশালী গণমাধ্যম বলা হয়।

সৃজনশীল প্রশ্ন (গ, ঘ)

সৃজনশীল প্রশ্ন ১ [ঢাকা বোর্ড ২০১৯]

উদ্দীপক: সবুজ তার মাকে বললেন, "তুমি প্রতিদিন টিভিতে একটি চ্যানেলে রাত ৯টায় খবর পাঠের অনুষ্ঠান দেখ। অনুষ্ঠানটি নিয়মিত দেখে পাঠক-পাঠিকার মতো সুন্দর করে কথা বলা বলতে শিখেছ।" মা সবুজকে আরও বললেন, "পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে, সময়মতো পড়তে বসবে। নিয়মিত বিকালে তোমার বয়সের ভালো ছেলেদের সাথে মাঠে খেলাধুলা করবে।"

উত্তর: 'ই-কমার্স'-এর পূর্ণরূপ হলো 'ইলেকট্রনিক কমার্স' (Electronic Commerce)

উত্তর: ভাষা মানুষের মনের ভাব প্রকাশের ও যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। ব্যক্তি সামাজিকীকরণে ভাষার গুরুত্ব অপরিসীম। ভাষার মাধ্যমেই মানুষ জ্ঞান অর্জন করে, সমাজের রীতিনীতি ও মূল্যবোধ শেখে এবং পারস্পরিক সুসম্পর্ক বজায় রাখে। ভাষা ছাড়া সমাজবদ্ধভাবে জীবনযাপন ও পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষা করা অসম্ভব, তাই এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উত্তর: মায়ের প্রথম উক্তিতে সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে 'গণমাধ্যম' (বিশেষত টেলিভিশন)-এর ইতিবাচক ভূমিকা ফুটে উঠেছে।

যেসব মাধ্যমের সাহায্যে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে সংবাদ, শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান, সংস্কৃতি ও বিনোদন পরিবেশন করা হয়, সেগুলোকে গণমাধ্যম বলে। সংবাদপত্র, বেতার, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র এর প্রধান উদাহরণ।

উদ্দীপকে সবুজের মা টিভিতে খবর পাঠের অনুষ্ঠান দেখে খবর পাঠকের মতো সুন্দর উচ্চারণে কথা বলা শিখেছেন। টেলিভিশন মানুষের চিন্তাভাবনা, ভাষা ও জীবনযাত্রাকে নানাভাবে প্রভাবিত করে। এটি মানুষকে শুদ্ধ ভাষা শিক্ষাদানে এবং রুচিবোধ তৈরিতে সাহায্য করে। মায়ের প্রথম উক্তিতে টেলিভিশনে সংবাদ বা অনুষ্ঠান প্রচারের মাধ্যমে ভাষার যে উন্নয়ন ও অনুকরণমূলক ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তা মূলত সামাজিকীকরণে গণমাধ্যমের অত্যন্ত শক্তিশালী প্রভাবকে নির্দেশ করে।

উত্তর: সবুজের সামাজিকীকরণে মায়ের শেষোক্ত বক্তব্য দ্বারা নির্দেশিত মাধ্যমটি হলো 'সমবয়সী সঙ্গী বা খেলার সাথী'। সামাজিকীকরণে এই মাধ্যমটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিই সামাজিকীকরণের একমাত্র বা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম নয়; বরং 'পরিবার' হলো সামাজিকীকরণের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাহন।

সমবয়সী সঙ্গীর ভূমিকা: মা সবুজকে তাঁর বয়সের ভালো ছেলেদের সাথে বিকেলে মাঠে খেলাধুলা করতে বলেছেন। শৈশবে সমবয়সী সঙ্গীদের সাথে খেলাধুলার মধ্য দিয়ে শিশুর নেতৃত্ব, সহমর্মিতা, সহযোগিতা ও সহনশীলতার গুণাবলী বিকশিত হয়। সহপাঠীদের আচরণ থেকে শিশু অনেক কিছু দ্রুত অনুকরণ করতে শেখে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে পরিবার: তবে একজন মানুষের শৈশব থেকে শুরু করে জীবনের সামগ্রিক নৈতিক ও চারিত্রিক ভিত গঠিত হয় তাঁর পরিবারে। পরিবার হলো শিশুর সামাজিকীকরণের প্রথম পাঠশালা। বাবা-মা ও অন্যান্য সদস্যদের আবেগ, স্নেহ-ভালোবাসা এবং পারিবারিক অনুশাসনই শিশুর মনে সততা, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলে। পরিবারই শিশুকে সমাজের রীতিনীতি প্রথম শিক্ষা দেয়। পরিবার যদি সঠিক পরিবেশ ও আদর্শ দিতে ব্যর্থ হয়, তবে সমবয়সী ভালো সঙ্গীদের ইতিবাচক প্রভাবও অনেক সময় কার্যকারিতা হারায়।

তাই পরিশেষে বলা যায়, সমবয়সী সঙ্গীদের ভূমিকা ব্যক্তিত্ব বিকাশে জোরালো হলেও সামগ্রিক জীবনের চারিত্রিক ও সামাজিক ভিত্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে 'পরিবার'-এর ভূমিকা সবচেয়ে অগ্রগণ্য ও গুরুত্বপূর্ণ।

সৃজনশীল প্রশ্ন ২ [কুমিল্লা বোর্ড ২০১৮]

উদ্দীপক: 'L' ৮-ম শ্রেণির ছাত্র। বাসা কিংবা বিদ্যালয়ে কারও সাথে সহজে মিশতে চায় না। তার বাবা তাকে স্থানীয় একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনে ভর্তি করে দেয়। ধীরে ধীরে সে সবার প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠে। অন্যদিকে 'L' স্কুলে না গিয়ে বখাটেদের সাথে মিশতে থাকে। পরিবারের কারও কথা শুনতে চায় না। এ নিয়ে বাবা-মা বেশ দুশ্চিন্তায় আছে।

উত্তর: ইন্টারনেট বা অনলাইনের মাধ্যমে কোনো পণ্য ও সেবা কেনাবেচা এবং লেনদেন করার আধুনিক পদ্ধতিকে ই-কমার্স বলে।

উত্তর: ভাষা মানুষের ভাব প্রকাশের ও যোগাযোগের অন্যতম প্রধান বাহন। জন্মের পর থেকেই শিশু ভাষার মাধ্যমে কথা বলতে ও শুনতে শেখে। ভাষার সাহায্যে সে সমাজ ও বিশ্বের নানা বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে, ঐতিহ্য ও রীতিনীতি আয়ত্ত করে এবং নিজের ব্যক্তিত্ব গঠন করে। ভাষা ছাড়া মানুষের পক্ষে কোনো সামাজিকীকরণ বা পারস্পরিক মেলবন্ধন সম্ভব নয়।

উত্তর: উদ্দীপকে 'L'-এর ইতিবাচক সামাজিকীকরণে 'স্থানীয় সমাজ বা সাংস্কৃতিক সংগঠন'-এর প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে।

মানুষের সামগ্রিক সামাজিকীকরণ项目中 স্থানীয় সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত জোরালো। স্থানীয় সমাজের মানুষের আচার-ব্যবহার, নিয়মনীতি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন শিশুর মনে গভীর ছাপ ফেলে। স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক ক্লাব, লাইব্রেরি, খেলাধুলার ক্লাব ইত্যাদি ব্যক্তির মননশীলতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

উদ্দীপকের 'L' প্রথম দিকে কারও সাথে মিশতে পারত না। কিন্তু তার বাবা তাকে স্থানীয় একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনে ভর্তি করে দিলে সে ধীরে ধীরে সবার প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠে। এই সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত হওয়ার ফলে তার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ ও গুণাবলী বিকশিত হয়েছে। এটিই প্রমাণ করে যে স্থানীয় সমাজ ও সংগঠনের সুপ্রভাব একজন নিঃসঙ্গ মানুষকে সুন্দর ও সামাজিক ব্যক্তিত্বে রূপান্তর করতে পারে।

উত্তর: উদ্দীপকে দেখা যায়, 'L' পরবর্তীতে স্কুলে না গিয়ে বখাটেদের সাথে মিশতে থাকে এবং পরিবারের কারও কথা শোনে না। এই পরিস্থিতির জন্য তাঁর 'পরিবার' আংশিক বা প্রধানত দায়ী হলেও পরিবেশ ও সমবয়সী সঙ্গীদের নেতিবাচক প্রভাবও কম দায়ী নয়।

পারিবারিক দায়ের সপক্ষে যুক্তি: পরিবার হলো শিশুর সামাজিকীকরণের প্রথম ও প্রধান শিক্ষালয়। শৈশব থেকেই বাবা-মায়ের নিবিড় ভালোবাসা, স্নেহ, পারিবারিক বন্ধন ও সুশিক্ষা শিশুকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। পরিবারে যদি সুস্থ পরিবেশের অভাব থাকে, বাবা-মায়ের মাঝে কলহ থাকে কিংবা সন্তানের মানসিক পরিবর্তনের সময় বাবা-মা যদি তাকে উপযুক্ত সময় ও সঠিক নির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হন, তবে সন্তান বিপথগামী হতে পারে। 'L' যখন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন বোধ করেছে, তখনই সে বখাটেদের সাথে মিশতে শুরু করেছে।

অন্যান্য উপাদানের প্রভাব: কেবল পরিবারকে দায়ী করা যায় না। 'L'-এর বয়সের ছেলেমেয়েরা সমবয়সী বখাটে বন্ধুদের নেতিবাচক আকর্ষণে খুব সহজে প্রলুব্ধ হয়। বখাটে সঙ্গীদের কুপ্রভাব ও উন্নত তদারকির অভাবও তাকে এই পথে নিয়ে গেছে।

তাই বলা যায়, পারিবারিক সঠিক নির্দেশনা, নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও আন্তরিক সম্পর্কের ঘাটতিই 'L'-কে বখাটেদের প্রতি আকৃষ্ট করেছে। অতএব, পরিবার এর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব এড়াতে পারে না।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৩ [রাজশাহী বোর্ড ২০১৯]

উদ্দীপক: ৪ বছর বয়সী ইফাজের বাবা মা দুজনেই চাকরিজীবী। ইফাজের জন্য তারা প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের খেলনা, কার্টুন ছবি ও স্টিকার কেনেন। ইফাজ টিভিতে নিয়মিত কার্টুন ছবি দেখে। একদিন হঠাৎ ইফাজ নিজেকে ব্যাটম্যান সাজিয়ে মা বাবাকে চমকে দেয়।

উত্তর: ই-মেইল (E-mail)-এর পূর্ণরূপ হলো 'ইলেকট্রনিক মেইল' (Electronic Mail)

উত্তর: শৈশবে সমবয়সী খেলার সাথীদের সাথে মিশে শিশু সহযোগিতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জন করে। তারা একে অপরের আচার-আচরণ ও কথাবার্তা পর্যবেক্ষণ ও অনুকরণ করে, যা তাদের ব্যক্তিত্বের সামাজিক গঠনে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা রাখে।

উত্তর: উদ্দীপকে ইফাজের নিজেকে ব্যাটম্যান হিসেবে সাজিয়ে তোলা সামাজিকীকরণের অন্যতম প্রধান মানসিক উপাদান 'অনুকরণ' (Imitation)-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

মানুষ যখন অন্য কারও কাজ বা আচরণ হুবহু নকল বা নিজের মধ্যে প্রকাশ করার চেষ্টা করে, তাকে অনুকরণ বলে। শৈশবে শিশুরা বড়দের বা তাদের পছন্দের চরিত্রের গতিবিধি অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে দেখে এবং তা অনুকরণ করতে চেষ্টা করে।

উদ্দীপকের ইফাজ ৪ বছরের একটি শিশু। সে টিভিতে নিয়মিত ব্যাটম্যান কার্টুন বা ছবি দেখে এবং সেই সুপারহিরো চরিত্রটির পোশাক ও কর্মকাণ্ড দেখে আকৃষ্ট হয়। ফলস্বরূপ সে নিজেকেও ব্যাটম্যান সাজিয়ে মা-বাবাকে চমকে দেয়। ব্যাটম্যান চরিত্রটিকে হুবহু নিজের সাজ ও আচরণের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার এই প্রক্রিয়াই হলো অনুকরণ।

উত্তর: উদ্দীপকের এই উক্তিটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক। ৪ বছরের শিশু ইফাজের সামগ্রিক আচরণ ও অভ্যাসের পেছনে তাঁর বাবা-মায়ের ধ্যান-ধারণা, দৃষ্টিভঙ্গি ও জীবনযাত্রার প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে।

পরিবার হলো শিশুর সামাজিকীকরণের প্রধান ও প্রথম কেন্দ্র। বাবা-মা যেভাবে সন্তানকে লালন-পালন করেন এবং ঘরে যে পরিবেশ গড়ে তোলেন, শিশুর মানসিকতা ঠিক সেভাবেই তৈরি হয়।

১. খেলনা ও প্রযুক্তির যোগান: ইফাজের বাবা-মা দুজনেই চাকরিজীবী। তাঁরা সন্তানকে একা একা ঘরে সময় কাটানোর জন্য কার্টুন ছবি, খেলনা ও স্টিকার কিনে দিয়েছেন। এটি তাঁদের আধুনিক ব্যস্ত নাগরিক জীবনের ধ্যান-ধারণা প্রকাশ করে।

২. টেলিভিশনের কুপ্রভাব: বাবা-মায়ের দেওয়া সুযোগের কারণেই ইফাজ ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিভিতে কার্টুন দেখছে। এর ফলে সে বাস্তব জগতের বন্ধুদের সাথে মেশার চেয়ে টিভির কল্পিত চরিত্রদের নিজের বন্ধু মনে করতে শুরু করেছে।

৩. আচরণগত প্রতিফলন: ইফাজের ব্যাটম্যান সেজে চমকে দেওয়ার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, বাবা-মা তাঁর বিনোদনের জন্য যে ধরনের কৃত্রিম আধুনিক মাধ্যমগুলো বেছে দিয়েছেন, ইফাজের মধ্যে ঠিক সেই ভাবনারই প্রকাশ ঘটেছে।

অতএব বলা যায়, চাকরিজীবী বাবা-মার ব্যস্ততা এবং তাদের দেওয়া খেলনা ও টেলিভিশনের সংস্কৃতির কারণেই ইফাজ কল্পজগতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে, যা মূলত তাঁর মা-বাবার যাপিত জীবনের ধ্যান-ধারণারই প্রতিফলন।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৪ [সিলেট বোর্ড ২০১৯]

উদ্দীপক: সুমন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। তার বাবা-মা প্রায়ই তার সামনে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হন। সুমন বাবা-মায়ের অবাধ্য সন্তান। সে ইদানীং পাড়ার বখাটে ছেলেদের সাথে মেলামেশা করে। যার ফলে তার মধ্যে অনেক নেতিবাচক আচরণ লক্ষ করা যায়।

উত্তর: টুইটার (Twitter) হলো ইন্টারনেটভিত্তিক একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ও মাইক্রোব্লগিং সাইট, যার সাহায্যে ব্যবহারকারীরা সংক্ষিপ্ত বার্তা বা মনের ভাব বিনিময় করে থাকেন।

উত্তর: সামাজিকীকরণ একটি জীবনব্যাপী চলমান প্রক্রিয়া। এটি মানুষের জন্মের পর শৈশব থেকে শুরু হয়ে আমৃত্যু চলতে থাকে। মানুষ সমাজের নিয়মকানুন, রীতিনীতি ও মূল্যবোধ কোনো একদিনে বা এক বছরে শেখে না, বরং প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত পরিবেশ, সমাজ ও জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন নতুন ভূমিকা ও দক্ষতা অর্জনের মধ্য দিয়ে সারা জীবন নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে শেখে। তাই এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।

উত্তর: সুমনের সামাজিকীকরণে তাঁর সমবয়সী বখাটে বন্ধুদের নেতিবাচক প্রভাব অত্যন্ত প্রবল ও ধ্বংসাত্মক হয়েছে।

শৈশব ও কৈশোরে সমবয়সী সঙ্গী বা বন্ধুরা সামাজিকীকরণের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। এই বয়সে সহপাঠীদের আচার-আচরণ, চিন্তাধারা ও অভ্যাসের প্রতি শিশুরা অত্যন্ত আকৃষ্ট হয়। সঙ্গী ভালো হলে ইতিবাচক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে, আর অসৎ সঙ্গ হলে মানুষ সামাজিক স্খলনের দিকে ধাবিত হয়।

উদ্দীপকের সুমন পাড়ার বখাটে ছেলেদের সাথে মেলামেশা শুরু করে। এই অসৎ ও বখাটে বন্ধুদের আচার-আচরণ দেখে সুমনের আচরণেও নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে। সে পড়াশোনায় মনোযোগ না দিয়ে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে এবং বাবা-মায়ের অবাধ্য হয়ে উঠেছে। বন্ধুদের এই কুপ্রভাবই সুমনের সামাজিকীকরণকে পুরোপুরি নেতিবাচক পথে পরিচালিত করেছে।

উত্তর: আমি এই উক্তিটির সাথে সম্পূর্ণ একমত যে, সুমনের বাবা-মায়ের আচরণের পরিবর্তনই সুমনের সুস্থ ও আদর্শ সামাজিকীকরণের পথ উন্মুক্ত করতে পারে।

পরিবার হলো শিশুর সামাজিকীকরণের প্রধান ভিত্তি। পরিবারে বাবা-মায়ের পারস্পরিক সম্পর্ক, ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ শিশুর মনের ওপর গভীর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

১. পারিবারিক দ্বন্দ্বের কুফল: উদ্দীপকে সুমনের বাবা-মা প্রায়ই তাঁর সামনে ঝগড়া-বিবাদ করেন। এই অশান্ত পরিবেশ সুমনের মনে গভীর হতাশা ও মানসিক অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে। ফলে সে ঘরের শান্তি ও ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়ে বাইরের বখাটেদের সাথে মিশতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছে এবং বখে গেছে।

২. বাবা-মায়ের আচরণ পরিবর্তনের গুরুত্ব: যদি সুমনের বাবা-মা নিজেদের মধ্যকার কলহ মিটিয়ে ঘরে একটি শান্ত, সুন্দর ও আনন্দময় পরিবেশ তৈরি করেন, তবে সুমনের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে। সে পরিবারে নিজের নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাবে।

৩. আস্থার পুনর্নির্মাণ: বাবা-মা সুমনের অবাধ্যতা দূর করতে তাকে বকাঝকা না করে স্নেহের সাথে শাসন করতে পারেন। তাকে সময় দিলে এবং বন্ধুসুলভ আচরণ করলে সে তার বখাটে বন্ধুদের সঙ্গ ত্যাগ করবে।

অতএব বলা যায়, সুমনের নেতিবাচক আচরণ পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি রয়েছে তাঁর বাবা-মায়ের হাতে। পারিবারিক শান্তি ও সহানুভূতিশীল আচরণই সুমনের সুস্থ সামাজিকীকরণের ভিত্তি ফিরিয়ে দিতে পারে।