উত্তর: সমাজে বিরাজমান এমন এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি, যা সমাজের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটায় এবং যা প্রতিকারের জন্য যৌথ সামাজিক প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়, তাকে সামাজিক সমস্যা বলে।
উত্তর: অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়েদের দ্বারা সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন ভঙ্গ করে যেসব অপরাধমূলক কাজ সংঘটিত হয়, সেগুলোকে কিশোর অপরাধ বলা হয়।
উত্তর: পাবলিক পরিবহনে ধূমপান করার শাস্তি হলো অনধিক ৩০০ (তিনশত) টাকা জরিমানা।
উত্তর: মাদকাসক্তির শারীরিক সমস্যা হলো—শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, যক্ষ্মা, ফুসফুসের ক্যানসার, শ্বাসকষ্ট এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া।
উত্তর: জাপানে কিশোর অপরাধীর বয়সসীমা হলো ১৪ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত।
উত্তর: সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত বয়সের চেয়ে কম বয়সী (বাংলাদেশে সাধারণত ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী) যেসব অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে আইন পরিপন্থী কাজে জড়িয়ে পড়ে, তারা কিশোর অপরাধী।
উত্তর: দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়নের জন্য সরকার যে দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনা গ্রহণ করে, তাকে জনসংখ্যা নীতি বলে।
উত্তর: মূলত অসৎ সঙ্গ বা বন্ধুবান্ধবের প্ররোচনার মাধ্যমে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাদকাসক্তির সূত্রপাত ঘটে।
উত্তর: বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে শক্তিশালী ও জনপ্রিয় গণমাধ্যম হলো 'টেলিভিশন'।
উত্তর: থাইল্যান্ডে কিশোর অপরাধীর বয়সসীমা হলো ৭ থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত।
উত্তর: শারীরিক ও মানসিক ত্রুটি শিশুর মনের মধ্যে গভীর হীনম্মন্যতার জন্ম দেয়, যা পরবর্তীতে তাকে অপরাধপ্রবণ করে তুলতে পারে।
উত্তর: বাংলাদেশে কিশোর অপরাধের বয়সসীমা হলো ৭ থেকে ১৬ বছর পর্যন্ত।
উত্তর: বাংলাদেশে কিশোর অপরাধের অন্যতম প্রধান কারণ হলো দারিদ্র্য।
উত্তর: কিশোর অপরাধের অন্যতম প্রধান কারণ হলো দারিদ্র্য। দরিদ্র পরিবারের পিতা-মাতার পক্ষে সন্তানদের মৌলিক চাহিদা যেমন পুষ্টিকর খাদ্য, ভালো শিক্ষা এবং বিনোদনের সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। এই বঞ্চনা ও তীব্র হতাশার কারণে অনেক কিশোর-কিশোরী খুব সহজেই অসৎ পথে পা বাড়ায় এবং নানা ধরনের অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ে।
উত্তর: অপসংস্কৃতি হলো নিজস্ব সুস্থ ঐতিহ্য, সামাজিক রীতিনীতি ও নৈতিক মূল্যবোধের পরিপন্থী অবক্ষয়মূলক আচরণ। স্যাটেলাইট ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিদেশী সংস্কৃতির নেতিবাচক দিকগুলো যখন তরুণ সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং তাদের মাদক বা উগ্র জীবনযাপনের দিকে ধাবিত করে, তখন তাকে অপসংস্কৃতি বলা হয়।
উত্তর: বাসস্থানের বারবার পরিবর্তনের ফলে শিশু-কিশোররা কোনো একটি নির্দিষ্ট সামাজিক পরিবেশে স্থায়ীভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পারে না। তাদের নতুন নতুন এলাকায় নতুন সহপাঠীদের সাথে মিশতে হয়, যার ফলে তারা একাকীত্ব ও মানসিক অস্থিরতায় ভোগে। সুস্থ বন্ধু বা সঙ্গীর অভাবে তারা অনেক সময় বখাটে ছেলেদের খপ্পরে পড়ে বিপথগামী হয়ে ওঠে, যা তাদের অপরাধপ্রবণ করে তোলে।
উত্তর: শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশের জন্য সুস্থ চিত্তবিনোদন (যেমন- খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ইত্যাদি) অত্যন্ত জরুরি। এর অভাব ঘটলে তারা একঘেয়েমি ও মানসিক অবসাদে ভোগে। এই একঘেয়েমি ও নিঃসঙ্গতা দূর করতে এবং সাময়িক রোমাঞ্চের আশায় তারা অনেক সময় মাদক গ্রহণ শুরু করে এবং একপর্যায়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে।
উত্তর: শৈশব ও কৈশোরে খেলার সাথি বা বন্ধুদের আচরণ শিশু-কিশোরদের সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে। ভালো সঙ্গীর প্রভাবে শিশুদের মধ্যে সহমর্মিতা, সততা ও মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে। অন্যদিকে অসৎ সঙ্গীর খপ্পরে পড়লে তারা খুব সহজেই মাদক ও নানা অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ে। তাই ভবিষ্যৎ জীবন সুন্দর ও নিরাপদ রাখতে সন্তানদের সৎসঙ্গ গড়ে তোলা জরুরি।
উত্তর: মানুষ যখন জীবনে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়, পারিবারিক কলহ বা অশান্তি ভোগ করে, কিংবা দীর্ঘ সময় বেকার থাকে, তখন তার মনে গভীর হতাশার জন্ম হয়। এই তীব্র মানসিক কষ্ট ও ক্লান্তি থেকে ক্ষণিকের জন্য মুক্তি পাওয়ার আশায় অনেকেই ভুলবশত নেশার পথে পা বাড়ায়। এভাবেই হতাশা মানুষকে দ্রুত মাদকাসক্ত করে তোলে।
উত্তর: নৈতিক শিক্ষা মানুষকে ভালো ও মন্দের পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে এবং মনে গভীর মূল্যবোধের সৃষ্টি করে। নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত কোনো তরুণ বন্ধুদের প্ররোচনায় বা হতাশার কবলে পড়লেও মাদক গ্রহণের মতো অনৈতিক কাজ সহজে করে না। নৈতিক মূল্যবোধ মানুষকে সুস্থ চিন্তা ও পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন করতে উদ্বুদ্ধ করে, যা মাদকাসক্তি রোধের প্রধান হাতিয়ার।
উত্তর: সন্তানদের আদর্শ, সৎ, দায়িত্বশীল ও সমাজ সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য শৈশব থেকেই নৈতিক শিক্ষা দেওয়া উচিত। নৈতিক শিক্ষার অনুপস্থিতিতে শিশুরা খুব সহজেই আধুনিক প্রযুক্তি বা অসৎ সঙ্গের কুপ্রভাবে কিশোর অপরাধ ও মাদকের করাল গ্রাসে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। নৈতিক শিক্ষাই সন্তানদের সুন্দর ও নিরাপদ জীবনের মূল ভিত্তি।
উত্তর: অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়েদের দ্বারা সমাজ বা রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন ভঙ্গ করে যেসব অপরাধমূলক কাজ সংঘটিত হয়, সেগুলোকে কিশোর অপরাধ বলা হয়।
উত্তর: সন্তানদের আদর্শ, সৎ, দায়িত্বশীল ও চরিত্রবান নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নৈতিক শিক্ষা দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাবে সন্তানরা খুব সহজেই মাদকাসক্তি, কিশোর অপরাধ বা অন্যান্য সামাজিক অবক্ষয়ে জড়িয়ে পড়ে। শৈশব থেকেই সঠিক নৈতিক শিক্ষা দিলে তারা অন্যায় ও অনৈতিক পথ বর্জন করার দৃঢ় মনোবল অর্জন করে।
উত্তর: উদ্দীপকের টমির অসাবধানতাবশত ক্ষতিকর নেশাজাতীয় বস্তু গ্রহণের কর্মকাণ্ডে আমাদের পাঠ্যপুস্তকে বর্ণিত 'মাদকাসক্তি' এবং এর মারাত্মক শারীরিক ও সামাজিক কুপ্রভাবের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
কৌতূহলবশত, বন্ধুদের প্ররোচনায় কিংবা পারিবারিক একাকীত্ব ও হতাশা থেকে তরুণ সমাজ মাদক গ্রহণে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। উদ্দীপকের টমিও বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে কৌতূহলবশত মাদক বা ক্ষতিকর নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ শুরু করে। মাদকের নিয়মিত ব্যবহারের ফলে মানুষের স্নায়ুতন্ত্র ও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়ে, যা তাকে তিল তিল করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। উদ্দীপকে ডাক্তার টমিকে পরীক্ষা করে জানান যে তাঁর অসতর্কতার কারণে তিনি একটি মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এটি সরাসরি মাদকাসক্তির কারণে সৃষ্ট শারীরিক অবক্ষয়ের দিকটিকে ফুটিয়ে তোলে।
উত্তর: উদ্দীপকে মুনজিরকে কিশোর অপরাধ ও বিপথগামিতা থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে বাবা জনাব কাশেম সাহেবের গৃহীত পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত সময়োপযোগী, সংবেদনশীল এবং অত্যন্ত কার্যকর।
কিশোর অপরাধের অন্যতম প্রধান কারণ হলো পারিবারিক স্নেহ-ভালোবাসার অভাব, অতিরিক্ত শাসন এবং সুস্থ চিত্তবিনোদনের ঘাটতি। উদ্দীপকে মুনজির খারাপ ছেলেদের সাথে মিশে উত্যক্ত করার মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়েছিল এবং মা-বাবার কড়া বকুনি পেয়ে সে ঘর ছেড়ে পালায়।
এই পরিস্থিতিতে কাশেম সাহেব তাঁর ভুল বুঝতে পেরে মুনজিরকে আরও বেশি কঠোর শাসন বা মারধরের মুখোমুখি না করে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন:
১. নিবিড় তদারকি ও সহানুভূতি: তিনি মুনজিরকে শাসন করার বদলে নিজে সরাসরি তাঁর খোঁজ নেন এবং তাঁর মানসিক অবস্থা বোঝার চেষ্টা করেন।
২. সুস্থ চিত্তবিনোদন: অবসর সময়ে তিনি মুনজিরকে নিয়ে বিভিন্ন দর্শনীয় ও বিনোদনমূলক স্থানে ঘুরতে যান। সুস্থ চিত্তবিনোদন কিশোরদের মানসিক অস্থিরতা দূর করে এবং তাদের মনকে প্রফুল্ল রাখে।
৩. আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি: কাশেম সাহেবের এই সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণের ফলে মুনজির নিজেকে পরিবারে নিরাপদ ও সম্মানিত বোধ করবে, যা তাকে খারাপ সঙ্গ ত্যাগ করে পড়াশোনায় ফিরতে উদ্বুদ্ধ করবে।
পরিশেষে বলা যায়, কিশোর অপরাধ দমনে শাস্তির চেয়ে পারিবারিক বোঝাপড়া, ভালোবাসা এবং সুস্থ বিনোদন অনেক বেশি কার্যকর। তাই মুনজিরকে সংশোধনের ক্ষেত্রে কাশেম সাহেবের পদক্ষেপগুলোর কার্যকারিতা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
উত্তর: পাবলিক পরিবহনে ধূমপান করার শাস্তি হলো অনধিক ৩০০ (তিনশত) টাকা জরিমানা।
উত্তর: অপসংস্কৃতি বলতে দেশীয় ঐতিহ্য ও নৈতিক মূল্যবোধের পরিপন্থী অবক্ষয়মূলক আচরণকে বোঝায়। স্যাটেলাইটের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও বিদেশী আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে তরুণ সমাজ তাদের নিজস্ব সুস্থ সংস্কৃতি ভুলে যায়। তারা এক কৃত্রিম ও লক্ষ্যহীন জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। এই মানসিক শূন্যতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের ফলেই তারা একপর্যায়ে মাদকাসক্তির দিকে ধাবিত হয়।
উত্তর: মাইকেলের কর্মকাণ্ডে আমাদের সমাজে মারাত্মক রূপ ধারণ করা 'কিশোর অপরাধ (Juvenile Delinquency)' নামক সামাজিক সমস্যাটি পরিলক্ষিত হয়।
অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়েদের দ্বারা সংঘটিত সমাজ ও রাষ্ট্রের আইন পরিপন্থী কাজকেই কিশোর অপরাধ বলা হয়। বাংলাদেশে সাধারণত ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোরদের অপরাধমূলক কাজকে কিশোর অপরাধের আওতায় ধরা হয়।
উদ্দীপকের মাইকেল নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে বাবার পকেট থেকে টাকা চুরি করছে, স্কুলে না গিয়ে বন্ধুদের সাথে সিনেমা দেখতে যাচ্ছে এবং বাড়ি থেকে অতিরিক্ত টাকা দাবি করছে। টাকা চুরি, স্কুল পালানো, মিথ্যা বলা—এগুলো কিশোর অপরাধের প্রাথমিক ও স্পষ্ট লক্ষণ। এই বয়সের শিক্ষার্থীরা যখন মা-বাবার অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে বা খারাপ বন্ধুদের প্ররোচনায় ভুল পথে পা বাড়ায়, তখন তারা কিশোর অপরাধীতে পরিণত হয়। মাইকেলের এসব আচরণ তারই প্রতিফলন।
উত্তর: উদ্দীপকের পাভেল মাদকাসক্তিতে লিপ্ত, যা তাঁর শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয় ডেকে আনার পাশাপাশি পুরো পরিবারকে চরম উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছে। এই সমস্যা সমাধানে এবং তাকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি:
১. পারিবারিক সহানুভূতি ও সমর্থন: পাভেলকে গালমন্দ বা সমাজচ্যুত না করে পরিবারের সদস্যদের তাঁর প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে। মাদকাসক্তদের অপরাধী হিসেবে না দেখে রোগী হিসেবে বিবেচনা করে আদর ও যত্নের সাথে বোঝাতে হবে।
২. পেশাদার চিকিৎসা ও পুনর্বাসন: পাভেলকে দ্রুত কোনো সরকারি বা বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করাতে হবে। সেখানে বিশেষজ্ঞদের অধীনে তাঁর শরীর থেকে ক্ষতিকর মাদকের বিষক্রিয়া দূর করতে হবে এবং তাঁকে নিয়মিত মানসিক কাউন্সেলিং দিতে হবে।
৩. খারাপ সঙ্গ বর্জন: পাভেল যাতে তাঁর পুরোনো মাদকাসক্ত বন্ধুদের সাথে আর যোগাযোগ রাখতে না পারে, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
৪. সুস্থ ও ব্যস্ত জীবনধারা: চিকিৎসার পর পাভেলকে সৃজনশীল কাজ, খেলাধুলা, পড়াশোনা ও সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে ব্যস্ত রাখতে হবে, যেন সে পুনরায় একাকীত্ব বা হতাশায় ভুগতে না পারে।
সমন্বিত পারিবারিক যত্ন এবং যথাযথ চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমেই কেবল পাভেলের এই মাদকাসক্তি দূর করা সম্ভব।
উত্তর: সমাজে বিরাজমান এমন এক অস্বাভাবিক অবস্থা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি, যা সমাজের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটায় এবং যা প্রতিকারের জন্য যৌথ সামাজিক প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়, তাকে সামাজিক সমস্যা বলে।
উত্তর: হতাশা হলো মাদকাসক্তির অন্যতম প্রধান কারণ। মানুষ যখন জীবনে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়, পারিবারিক অশান্তি ভোগ করে, কিংবা বেকারত্ব বা নিঃসঙ্গতায় ভোগে, তখন তার মনে তীব্র মানসিক হতাশার জন্ম হয়। এই হতাশা ও মানসিক যন্ত্রণা থেকে সাময়িক মুক্তি পাওয়ার আশায় অনেকেই ভুলবশত মাদক গ্রহণ শুরু করে এবং একপর্যায়ে চরমভাবে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে।
উত্তর: রফিক সাহেবের মেয়েকে 'কিশোর অপরাধ' (বিশেষ করে বখাটে ছেলেদের দ্বারা মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা বা ইভটিজিং) নামক মারাত্মক সামাজিক সমস্যাটি চিন্তিত ও শঙ্কিত করেছে।
অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদের দ্বারা প্রচলিত সামাজিক নিয়ম ও আইনের পরিপন্থী আচরণকে কিশোর অপরাধ বলা হয়। উদ্দীপকের দশম শ্রেণির কিছু বখাটে ছেলে রফিক সাহেবের মেয়েকে স্কুলে যাতায়াতের পথে নানাভাবে উত্ত্যক্ত ও হয়রানি করছে।
কৈশোরের অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনা, নৈতিক শিক্ষার অভাব, উপযুক্ত পারিবারিক তদারকির ঘাটতি এবং মাদকের কুপ্রভাবের কারণে অনেক কিশোর সমাজে বখাটেপনা শুরু করে। মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার মতো গর্হিত অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এটি কেবল ছাত্রীদের নিরাপত্তা ও পড়ালেখার স্বাভাবিক পরিবেশকেই ব্যাহত করে না, বরং তাদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ভীতির সৃষ্টি করে। এই কিশোর অপরাধই রফিক সাহেবের মেয়ের চিন্তিত হওয়ার মূল কারণ।
উত্তর: উদ্দীপকে উল্লিখিত ছেলেদের আসক্তিজনিত সমস্যা অর্থাৎ 'মাদকাসক্তি' বর্তমান প্রজন্মের একটি বড় অন্তরায়। এই ভয়াবহ ব্যাধি থেকে কিশোরদের রক্ষা করার জন্য প্রতিরোধমূলক ও নিরাময়মূলক বহুমুখী সামাজিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি:
১. পারিবারিক সচেতনতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ: পরিবার হলো নৈতিক শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র। শৈশব থেকেই সন্তানদের মধ্যে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে। বাবা-মাকে সন্তানদের বন্ধু হতে হবে এবং তারা কার সাথে মিশছে, কোথায় সময় কাটাচ্ছে সে ব্যাপারে সতর্ক নজর রাখতে হবে।
২. চিত্তবিনোদন ও খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি: কিশোরদের সৃজনশীল শক্তিকে ইতিবাচক দিকে চালিত করতে স্কুল ও এলাকায় পর্যাপ্ত খেলার মাঠ, জিমনেসিয়াম, পাঠাগার এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ রাখতে হবে।
৩. আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ: মাদক সরবরাহকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া ইভটিজিং ও বখাটেপনা দমনে কমিউনিটি police-এর সাহায্য ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের নিয়ে প্রতিরোধ কমিটি গঠন করতে হবে।
৪. চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং: আসক্ত কিশোরদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত সরকারি ও বেসরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে এবং নিয়মিত কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতার সমন্বিত প্রয়াসই পারে কিশোর সমাজকে মাদক ও অপরাধের অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে।
উত্তর: সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত বয়সের চেয়ে কম বয়সী (বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ৭ থেকে ১৬ বছর বয়সী) যেসব অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে প্রচলিত আইন ভঙ্গ করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত হয়, তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক অপরাধী বা কিশোর অপরাধী হিসেবে পরিচিত।
উত্তর: কোনো শিশু বা কিশোর যদি শারীরিক ত্রুটি, মানসিক বৈকল্য, কিংবা চরম অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্যের শিকার হয়, তবে তার মনে তীব্র হীনম্মন্যতার সৃষ্টি হয়। এই হীনম্মন্যতা ও হতাশা তাকে সমাজের মূলস্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। নিজের ভেতরে জমে থাকা ক্ষোভ ও অস্থিরতা প্রকাশ করতে গিয়ে তারা একপর্যায়ে উগ্র আচরণ শুরু করে এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।
উত্তর: উদ্দীপকে কিশোরী 'জ'-এর আচরণের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আমাদের সমাজে বিরাজমান 'কিশোর অপরাধ' ও 'মাদকাসক্তির' নেতিবাচক প্রভাবের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ৮ম শ্রেণির ছাত্রী 'জ' হঠাৎ করেই খুব বিমর্ষ হয়ে পড়েছে এবং পড়াশোনায় মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছে। তার আচরণে উগ্রতা দেখা যাচ্ছে এবং সে খারাপ সঙ্গীদের সাথে মেলামেশা করছে। এই লক্ষণগুলো কিশোর বয়সের অবক্ষয় ও নৈতিক বিচ্যুতির স্পষ্ট প্রমাণ।
পারিবারিক ভাঙন, অসৎ বন্ধুবান্ধবের কুপ্রভাব অথবা আধুনিক প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে কিশোর-কিশোরীরা পড়াশোনায় মনোযোগ হারিয়ে ফেলে এবং অপরাধের পথে পা বাড়ায়। 'জ'-এর এই অস্বাভাবিক পরিবর্তন মূলত আমাদের দেশের কিশোর-কিশোরীদের বিপথগামিতা ও কিশোর অপরাধের প্রাথমিক রূপকে নির্দেশ করে।
উত্তর: "কিশোর অপরাধ ও বিপথগামিতা পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে"—উক্তিটি সম্পূর্ণ অনস্বীকার্য।
পারিবারিক জীবনে প্রভাব:
১. শান্তি বিনষ্ট: পরিবারের কোনো সন্তান অপরাধের পথে ধাবিত হলে বা মাদকাসক্ত হলে পুরো পরিবারের সুখ-শান্তি উবে যায়। বাবা-মায়ের কপালে চিন্তার ভাজ পড়ে এবং তাদের সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন হয়।
২. অর্থনৈতিক ক্ষতি: সন্তানের অপরাধের জরিমানা দেওয়া কিংবা চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ে।
সামাজিক জীবনে প্রভাব:
১. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবক্ষয়: কিশোর অপরাধীরা দলবেঁধে এলাকায় বখাটেপনা, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা, চুরি, ছিনতাই, মারামারি এমনকি খুনের মতো ঘটনা ঘটায়, যা সামাজিক নিরাপত্তাকে মারাত্মক হুমকিতে ফেলে।
২. ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পতন: কিশোররা দেশের ভবিষ্যৎ শক্তি। তারা যদি নৈতিকভাবে স্খলিত হয়ে পড়ে, তবে দেশ মেধাবী ও সুস্থ নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হয়, যা জাতীয় অগ্রগতির বড় বাধা।
অতএব, কিশোর অপরাধ কেবল একটি একক সমস্যা নয়, এটি সমগ্র পারিবারিক ও সামাজিক社会的 শান্তি ও সমৃদ্ধিকে বিনষ্টকারী এক মহামারী।
উত্তর: সমাজে বিরাজমান এমন এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে এবং যার প্রতিকারের জন্য যৌথ সামাজিক সচেতনতা ও প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়, তাকে সামাজিক সমস্যা বলে।
উত্তর: অপসংস্কৃতি হলো নিজস্ব সুস্থ সংস্কৃতির পরিপন্থী ও নৈতিক অবক্ষয় সৃষ্টিকারী উপাদানসমূহ। স্যাটেলাইট চ্যানেল ও ইন্টারনেটের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মাধ্যমে বিদেশী সংস্কৃতির নেতিবাচক উপাদানগুলো সরাসরি তরুণ সমাজের মনে প্রবেশ করে। এর ফলে তারা এদেশীয় সুস্থ বিনোদন ও সামাজিক রীতিনীতি ভুলে গিয়ে এক কৃত্রিম, উগ্র ও ভোগবাদী সংস্কৃতিতে আকৃষ্ট হয়। এই সাংস্কৃতিক শূন্যতা ও অবক্ষয়ের ফলেই তারা মাদক গ্রহণে আসক্ত হয়ে পড়ে।
উত্তর: উদ্দীপকে শিক্ষিত পরিবারের ছেলে কাসেমের ইন্টারনেটে রাত জাগা এবং স্কুলে অনুপস্থিত থাকার ঘটনার সাথে আমাদের সমাজে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া 'প্রযুক্তির অপব্যবহারজনিত মানসিক অবক্ষয় ও কিশোর অপরাধের পূর্বলক্ষণ'-এর গভীর মিল রয়েছে।
বর্তমান যুগে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার তরুণদের স্বাভাবিক সামাজিকীকরণকে ব্যাহত করছে। উদ্দীপকের কাসেম ইন্টারনেটে আসক্ত হয়ে পড়েছে, রাতে ঘুমাচ্ছে না এবং স্কুলে নিয়মিত অনুপস্থিত থাকছে। সে বিপথগামী বন্ধুদের সাথে মিশে ট্রেনের টিকিট কেটে রেল ভ্রমণে যাচ্ছে।
এটি স্পষ্টত এক ধরনের পারিবারিক তদারকির অভাবজনিত নৈতিক স্খলন ও অবাধ্যতা, যা কালক্রমে কিশোর অপরাধের রূপ নেয়। প্রযুক্তি যখন সুস্থ বিনোদনের চেয়ে অনৈতিক আকর্ষণ ও নেশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখনই তা কিশোর-কিশোরীদের অবক্ষয়ের মূল কারণ হয়ে ওঠে। কাসেমের এই আচরণ মূলত প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফল।
উত্তর: উদ্দীপকে কাসেমের অবক্ষয় ও বিপথগামিতার মতো সমস্যাগুলো থেকে আমাদের তরুণ সমাজ ও দেশকে রক্ষা করার জন্য একটি সমন্বিত ও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে:
১. পারিবারিক তদারকি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক: মা-বাবাকে সন্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। সন্তান ইন্টারনেটে কী করছে এবং কার সাথে মিশছে, সে ব্যাপারে সতর্ক নজর রাখতে হবে। কড়া বকুনির বদলে ভালোবাসার মাধ্যমে প্রযুক্তি ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করে দিতে হবে।
২. সুস্থ ও ঐতিহ্যবাহী চিত্তবিনোদন: কিশোরদের প্রযুক্তি আসক্তি থেকে দূরে রাখতে এলাকায় পর্যাপ্ত খেলার মাঠ, খেলাধুলার সামগ্রী, বই পড়ার পাঠাগার এবং সাংস্কৃতিক ক্লাবের ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. প্রযুক্তির সচেতন ব্যবহার নিশ্চিতকরণ: স্কুল, কলেজ ও গণমাধ্যমে ইন্টারনেটের সচেতন ও নিরাপদ ব্যবহার নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচারণা বা সেমিনার করতে হবে।
৪. নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা: শৈশব থেকেই শিশুদের মনে ধর্মীয় ও নৈতিক অনুশাসন গেঁথে দিতে হবে, যেন তারা ভালো ও মন্দের পার্থক্য নিজে থেকেই বুঝতে পারে।
পারিবারিক সুশাসন ও সামাজিক প্রতিরোধের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে আমাদের যুবসমাজকে প্রযুক্তির অন্ধকার দিক ও অপরাধ থেকে মুক্ত রেখে সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দিতে।